বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, দুই নেত্রীকে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের ফোন করাটা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতির জন্য খুবই ইতিবাচক ঘটনা। এ দেশের প্রধান দুই দলের নেতাকে ফোন করে তার সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়া প্রমাণ করে তিনি একটি সংলাপ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান। যেরকম নির্বাচন বাংলাদেশি জনগণও চায়। আমরাও চাই জনগণের মতের প্রতিফলন ঘটুক। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি খুবই শক্তিশালী বার্তা।
গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনশেষে তিনি এ কথা বলেন। ‘জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কর্মসূচী ও দক্ষিণ এশিয়া: প্রবণতা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক দুইদিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং আমেরিকান সেন্টার।
ড্যান মজীনা বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিবের মতামত আমরা উপলব্ধি করছি ও ধারণ করি। প্রধান দুই দলকেই গঠনমূলক সংলাপে বসা দরকার। কেননা এটিই এগিয়ে যাওয়ার উপায়। বাংলাদেশি জনগণ চায় একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু নির্বাচন। তাই প্রধান দুই দলসহ সব দলের নেতাদের তেমনই একটি নির্বাচন সম্পন্নের জন্য একসাথে উপায় খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের মন্তব্য বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই চীনা রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্য সচেতনভাবে দিয়েছেন। সংলাপের কথা বলেছেন। তার বক্তব্য খুবই পরিষ্কার ও স্পষ্ট। এজন্য আমার ব্যাখ্যা দরকার নেই। আমিও মনে করি, বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার স্বার্থে প্রধান দলগুলোর উচিত গঠনমূলক সংলাপ শুরু করা।
এর আগে সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ এক নম্বরে অবস্থান করছে। অত্যন্ত সুনামের সাথে বাংলাদেশি সেনা-পুলিশ কর্তব্য পালন করছে। এজন্য বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে। তাদের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায় খুবই কৃতজ্ঞ।
ড্যান মজীনা বলেন, শান্তিরক্ষা কর্মসূচিতে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পেরে যুক্তরাষ্ট্রও গর্বিত ও আনন্দিত। এ দেশে শান্তিরক্ষা ল্যাব ও ইনস্টিটিউট তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই সহযোগিতা করছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা বৃদ্ধিতে পরবর্তীতে আমাদের আরও পদক্ষেপ থাকবে। শান্তি রক্ষা, শান্তি তৈরিতে ও জেন্ডার বৈষম্য দূর করতে তারা যেন অধিকতর প্রশিক্ষিত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় সেদিকটিও সকলকে খেয়াল রাখতে হবে।
সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘের সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান কর্মসূচি হলো শান্তিরক্ষা মিশন। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রধান উপকরণ এ মিশন। ১৫ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেনা ও পুলিশ মিশনের দায়িত্ব পালন করছে। এক্ষেত্রে অবদান রাখতে পেরে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদ, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের অপারেশন্স এন্ড প্লান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ খান। স্বাগত ভাষণ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক আশেকা এরশাদ।
