কেন্দ্রীয় নেতাদের সমন্বয়ে ১৫ টিম দেশব্যাপী গণসংযোগে যাচ্ছে

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫৪
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিজয় সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর অংশ হিসাবে সরকারের সাফল্য ও অর্জনকে মানুষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বিরোধী দলের অপপ্রচারের জবাব দিয়ে তাদের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের মুখোশ উন্মোচনের পরিকল্পনা নিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সেইসঙ্গে দলের কোন্দল মিটিয়ে আগামী নির্বাচনের আগে দলে ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্যও গণসংযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয় অর্জনের লক্ষ্যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে দলটি। যেহেতু তারা ক্ষমতায় সে কারণে নিজেদের সাফল্য ও অর্জনকে তুলে ধরাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দলের নীতি-নির্ধারক মহল। একইসাথে ‘বিএনপি ও ধর্মীয় মৌলবাদী দলগুলোর রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত’কে জনগণের সামনে উন্মোচন করে তাদেরকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটদানে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হবে। পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে দশ দিনব্যাপী প্রচারণার এ ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে দলটি। দলের কেন্দ্র থেকে তৃণমূলে কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে তার বিস্তারিত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই দলের সকল জেলা ও মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। দেশব্যাপী প্রচার ও গণসংযোগের জন্য নেয়া হয়েছে ব্যাপক কর্মসূচি। দলকে চাঙ্গা করার জন্য দলীয় কোন্দল ও বিভেদ নিরসন করে প্রচারণা কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার জন্য কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত ১৫টি টিম আগামী পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে প্রচার ও গণসংযোগে যাবে। গত ১৮ আগস্ট আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। দশদিনের দেশব্যাপী এ প্রচারণাকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দলের হাইকমান্ড থেকে জেলা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে প্রচারের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে দলের মন্ত্রী, সংসদ সদস্যদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিতভাবে প্রচারণা হচ্ছে কি না তা কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে অবহিত করতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সে কারণে অবিলম্বে দলের যে সকল স্তরে মতানৈক্য ও ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে তার অবসান ঘটিয়ে নেতৃবৃন্দকে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে জামায়াত-বিএনপি-হেফাজতিদের ধর্মানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে যে অপপ্রচার তার বিরুদ্ধে দলের নেতা-কর্মীদের করণীয় প্রসঙ্গে। আওয়ামী লীগ যে ইসলামের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে সর্বদা নিয়োজিত এসব বিষয় মানুষের সামনে তুলে ধরার বিষয়গুলো বিস্তারিত জানানো হয়েছে কেন্দ্র ৬ মে হেফাজতে ইসলামীর অবস্থান কর্মসূচির আড়ালে জামায়াত-বিএনপি কর্তৃক পবিত্র কোরআন শরীফে অগ্নিসংযোগ, হাদিস শরীফ, টুপি-তসবি, জায়নামাজ পোড়ানো এবং বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের অভ্যন্তরে অগ্নিসংযোগ করে ইসলাম ধর্মের যে অবমাননা ও অমর্যাদা করা হয়েছে তা জনগণের সামনে তুলে ধরতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকমান্ড। আওয়ামী লীগ সরকার ৫ ও ৬ মে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে বিনা রক্তপাতে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশে আগত হেফাজত কর্মীদের নিজ নিজ জেলায় পাঠিয়ে দিয়ে দেশকে অনিশ্চয়তার হাত থেকে রক্ষা করেছে, অথচ বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠী এ ঘটনাকে বিকৃত করে মিথ্যা কাহিনী প্রচার করছে—এই সত্য জনগণকে জানানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ যে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে পারে সে বিষয়ে কয়েকটি নির্বাচনে বিরোধী দলের জয়লাভকে তুলে ধরে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু যে অযৌক্তিক দাবি সে কথাও এ প্রচারণায় জানাবে তারা। বিশ্ব মন্দাকে মোকাবিলা করে বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, শিক্ষার অগ্রগতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রায় সোয়া কোটি শিক্ষার্থীকে বৃত্তি ও উপ-বৃত্তি প্রদান, কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে কৃষকের উন্নতি, দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করা জনগোষ্ঠীকে খাদ্য নিরাপত্তা প্রদানের বিশেষ উদ্যোগ, নারীর ক্ষমতায়ন, রাজধানীর ফ্লাইওভারসহ সারাদেশের রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়কে জনগণের সামনে তুলে ধরতে চায় আওয়ামী লীগ। ১৫টি টিম গঠন এ প্রচারণার জন্য ১৫টি টিম গঠন করা হয়েছে। সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা; তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে খুলনা জেলা ও মহানগর, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, নড়াইল; আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, রংপুর, রংপুর মহানগর, লালমানিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা; মোহাম্মদ নাসিমের নেতৃত্বে রাজশাহী জেলা ও মহানগর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর; আমির হোসেন আমুর নেতৃত্বে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, বরিশাল, বরিশাল মহানগর, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর ও ঝালকাঠি; ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনী; সাহারা খাতুনের নেতৃত্বে চট্টগ্রাম মহানগর, চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ; শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নেতৃত্বে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর; সতীশ চন্দ্র রায়ের নেতৃত্বে ফরিদপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও রাজবাড়ী; কাজী জাফর উল্লাহর নেতৃত্বে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ; বেগম মতিয়া চৌধুরীর নেতৃত্বে যশোর, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও ঝিনাইদহ; সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বে সিলেট, সিলেট মহানগর, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।