বিশ্বে যদি কোনো সন্তানের জন্ম নিয়ে অধিক আগ্রহ মানুষের থাকে সেটি হয়তো ব্রিটিশ রাজপরিবারের শিশুকে নিয়ে। শিশুর জন্ম, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে লালন-পালনসহ সবকিছু সম্পর্কে মানুষের একটা আলাদা আবেগ কিংবা জানার আগ্রহ থাকে। তাইতো রাজপরিবারের শিশুর জন্মের সময় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ রাত জেগে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখেন।
তবে রাজা-প্রজার মধ্যে অন্যসব দিক থেকে যতোই পার্থক্য থাকুক না কেন মাতৃত্বে এবং পিতৃত্বের ক্ষেত্রে কারো মধ্যে পার্থক্য থাকে না। ঠিক পার্থক্য নেই সদ্য মাতৃত্ব এবং পিতৃত্বের অধিকারী হওয়া ব্রিটিশ রাজপরিবারের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী প্রিন্স উইলিয়াম এবং তার স্ত্রী কেট মিডলটন। ভবিষ্যত্ এক রাজার মুখে জানা গেল ভবিষ্যতের আরেক রাজার জীবন সম্পর্কে।
জর্জ আলেকজান্ডার লুইস ব্রিটিশ রাজসিংহাসনের ভবিষ্যত রাজা হতে পারে। কিন্তু সে বর্তমানে একটি দুষ্টু ছেলে, বাবা হওয়ার পর এক সাক্ষাত্কারে ব্রিটিশ সিংহাসনের দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী ডিউক অব ক্যামব্রিজ প্রিন্স উইলিয়াম তার নবজাত সন্তান সম্পর্কে এ কথা বলেন। এ সময় নীল রঙের জিন্স এবং পোলো ব্রান্ডের শার্ট পরেছিলেন উইলিয়াম।
রসিকতা করে উইলিয়াম বলেন, এটা একটা ভাল দিক যে তার মাথায় চুল আছে। তিনি বলেন, জর্জ তার জন্মের পরই হয়তো ইতোমধ্যে একটি সাক্ষাত্কার দিয়েছে। সে যুবক বয়সে আমার অথবা আমার ভাই হ্যারির মতো আচরণ করবে। আর এখন হয়তো আমরা এই বয়সে যে আচরণ করেছি সেই ধরনের আচরণ করছে। কিন্তু এ বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তবে সে এই মুহূর্তে ভাল একটা কিছু করছে। সে আসলে দ্রুত বেড়ে উঠছে। জর্জের বিষয়টিই পরিবারের কাছে এখন গুরুত্বপূর্ণ বা প্রাধান্য পাচ্ছে বলে জানান ডিউক অব ক্যামব্রিজ।
জর্জ কেবল নড়াচড়া করে এবং ঘুমাতে চায় না বলেন জানান দ্বিতীয় উত্তরাধিকারী। উইলিয়াম বলেন, তার স্ত্রী ডাচেস অব ক্যামব্রিজ ক্যাথরিনই সারারাত জর্জের সঙ্গে থাকে। তিনি স্বীকার করেন যে, তাকে পূর্বের রয়াল বিমানবাহিনীর চাকরিতে ফিরে যেতে হয়েছে। কাজের পর শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ায় ঘুমিয়ে পড়ি। সন্তানের জন্য প্রয়োজনীয় রাতের চাকরি করা আমার দ্বারা সম্ভব হয় না। লন্ডনের সেন্ট মেরিস হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় জর্জকে প্রথম জনসম্মুখে দেখানো হয়।
উইলিয়াম বলেন, আমার হয়তো কিছুটা বিব্রত লাগছিল। তবে আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই আনন্দবোধ করছিলাম এই ভেবে যে, আমরা আমাদের নতুন সন্তানকে অনেকের সামনে দেখাতে পেরেছি। যাকে দেখার জন্য অনেকে আগ্রহভরে অপেক্ষা করছিল। আর সব মা-বাবাই তার নতুন সন্তানকে দেখাতে আগ্রহবোধ করেন। হয়তো উইলিয়াম-কেটের মতো অন্যান্য মা-বাবার সামনে এত ফটোগ্রাফার থাকে না। কারণ প্রত্যেক সন্তান তার মা-বাবার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং আদরের হয়। আমি আনন্দিত যে, হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার পর প্রিয় জর্জ চিত্কার করেনি। তবে ওই অভিজ্ঞতাটা এটা আমার প্রথমবারের মতো নয়। কারণ আমি এর আগে অনেকবার নিজে নিজে রিহার্সেল দিয়েছি। আমার মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছিল যে, জনসম্মুখে আমার ভূমিকাটা কেমন হবে। আমি পারবো তো! আমার পরিবারই বা আমার ভূমিকা নিয়ে কেমন ধারণা পোষণ করবে। আমি কতটুকু আধুনিকতা এ কাজে আনছি।
আমরা অন্যান্য প্রজন্মের চেয়ে একটু ভিন্নভাবে বড় হয়েছি। আমি যা করতে পারি তা আমি নিজেই করতে চাই। অনেক সময় আপনি নিজে হয়তো অনেক কিছু করতে চাননি। কিন্তু এখন সে প্রচলনটা নেই। হাসপাতাল থেকে স্ত্রী এবং পুত্রকে নিয়ে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি নিয়ে আসা আমার কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যত্ রাজা যখন তার পরিবারকে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাবেন তখন হয়তো তার মা-বাবার ঐতিহ্য খুব কম একটা ত্যাগ করতে পারবেন না।
ডিউক অব ক্যামব্রিজ হেসে বলেন, জর্জের প্রথম ডায়াপারটা আমিই প্রথম পরিবর্তন করেছিলাম। এটা আমার জন্য সম্মানের। এক্ষেত্রে আমি অন্য কাউকে অনুমতি দিইনি। ধাত্রীরা সব আমার দিকে তাকিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, আপনিই করুন, আপনিই করুন। স্ত্রী ক্যাথরিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। আছে লুপোও (কুকুর)। হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে তিনি বলেন, কুকুরটিও সুন্দরভাবে তার দায়িত্ব পালন করছে। বাড়ির আশেপাশে ঘুরছে এবং লালা বের করছে বাচ্চাদের মতো।
আফ্রিকা সম্পর্কে তৃতীয় উত্তরাধিকারী জর্জকে জানাবে রাজপরিবার। আর রাজপরিবারের এক সদস্য এবং বাবা হিসেবে জর্জকে এটা শেখাবেন উইলিয়ামই। ব্রিটিশ রাজপরিবার আফ্রিকার ক্ষেত্রে যে দায়িত্ব পালন করে সেই দায়িত্ব সম্পর্কে জর্জকে অবগত করা তার দায়িত্ব। তার (উইলিয়াম) বাবা প্রিন্স চার্লসও এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। রহস্য করে প্রিন্স উইলিয়াম বলেন, আমি ঘরে হাতি এবং গন্ডারের খেলনা রাখবো। ঘরকে জঙ্গলের মতো করে তুলবো। যাতে সে মনে করে সে জঙ্গলের মধ্যে আছে এবং আফ্রিকায় কাজ করতে জর্জের কোনো সমস্যা না হয়।
তবে আফ্রিকায় রাজপরিবারের নীতি জর্জের মাথায় এখনই ঢোকানোর জন্য তাত্ক্ষণিক কোনো মাথাব্যথা আমাদের নেই। বর্তমানে আমাদের প্রাধান্য হচ্ছে যাতে সে বেশি ঘুমায়। এতে বারবার তার ন্যাপি পরিবর্তন করার প্রয়োজন হবে না। ওর জন্মের পর আমার মধ্যে পিতৃত্বের একটা আবেগ কাজ করছে এবং ভিন্ন একটা কিছুর মধ্যে আছি মনে হয়। পিতৃত্বের এই আবেগ হয়তো চিরদিন থাকবে। কিন্তু ছোট্ট সোনামণিকে নিয়ে বর্তমানে যে চিন্তা তার পরিবর্তন ঘটবে।
