সফল কথা

হতে হবে ইন্ডিপেনেডন্ট

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ১৯:৫০
আফরিনা রহমান ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পাবলিক অ্যাডমিনিসট্রেশন’ বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করে ঐ বছরই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি’তে অ্যাডমিনিসট্রেশন অফিসার হিসেবে যোগদান করেন। সফলতার সাথে দুই বছর কাজ করার পর তিনি যোগদান করনে ইষ্টার্ন ব্যাংকে। ব্যস্ততম বিভাগ ‘কার্ড ডিভিশন’র ব্যস্ততা সামলিয়ে এখানেও আফরিনা রহমান দক্ষতার সাথে কাজ করেন দুই বছর। এরপর ২০০৭-এ সিনিয়র অফিসার হিসেবে আসেন ‘দ্যা সিটি ব্যাংক লিমিটেড’-এ। কর্মদক্ষতা, মনোনিবেশতা, কাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা, পেশার প্রতি সম্মানবোধ্যতা প্রতিফল দিয়েছে আফরিনা রহমানকে। নিজের যোগ্যতায় নিষ্ঠায় পরিশ্রমে তিনি উত্তরণ ঘটিয়েছেন নিজের। ২০০৭ থেকে অদ্যাবধি তিনি কর্মরত আছেন ‘দ্যা সিটি ব্যাংক লিমিটেড’-এ। এখন কাজ করছেন সিনিয়র ম্যানেজার (কার্ড ডিপার্টমেন্ট) হিসেবে। বিসিএস বা সরকারি চাকরির প্রসঙ্গ আসলে তিনি বলেন, ‘সবাইকে যে সরকারি চাকরি করতে হবে এমন কোনো কথা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পাড়াশোনা করা ্অবস্থাই আমার ইচ্ছে ছিল বেসরকারি চাকরি করবো। বিশেষভাবে ব্যাংকিং সেক্টরের প্রতি একটা টান ছিল।’ কেন? ‘ব্যাংকিং একটা চ্যালেঞ্জিং পেশা। তাছাড়া কাজের ক্ষেত্র, পরিবেশ, সম্মান সব মিলিয়ে মনে হয়েছে আমার জন্য সঠিক। তাই ব্যাংকিং সেক্টর আমার আগে থেকেই পছন্দ ছিল, আমি আমার পছন্দের কাজ পেয়েছি; এখন এনজয় করছি।’ নতুনদের প্রতি আফরিনার রহমানের কথা, ‘সবার আগে নিজের পথ ঠিক করতে হবে যে, সে কি করতে বা কি হতে চায় অথবা আজ থেকে কয়েক বছর পর সে নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চায়। বিশেষ করে প্রত্যেককে পড়াশোনা করা অবস্থাই ঠিক করতে হবে সে ভবিষ্যতে কি করবে। সে মাফিক তাকে একটু একটু করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরির জন্যও প্রস্তুতি নিতে হবে। যে বিসিএস দিতে চায় তাকে বিসিএস-এর জন্য যে পড়াশোনার লাইন-আপ সে পথেই পড়ালেখা করতে হবে। আর যে করপোরেট লেভেলে আসতে চায় তাকে সে মাফিক মনোপ্রস্তুতি নিতে হবে অথবা যে ব্যাংকিং সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহী তাকে এ বিষয়ে সমৃদ্ধ হতে হবে। খেলোয়াড়ের কৌশল রপ্ত করে নিশ্চয় ড্রাইভার হওয়া যায় না! আফরিনা বলেন, ‘মেয়েদের সুযোগ দিতে হবে। এখনো অনেক পরিবার আছে যেখানে মেয়েদেরকে অবলা ধরে নেয়া হয়। ভাবা হয় সে সব ক্ষেত্রে কাজ করতে পারবে না বা করা উচিত নয়। কিন্তু সে সময় নেই, সময় এগিয়েছে। মেয়েরাও এগিয়েছে। তারা সুযোগ পেলে পারে। সুযোগ বলতে সুবিধা তা নয়! চলার, মতের, ইচ্ছার স্বাধীনতা দিলে মেয়েরাও সব কর্মপরিসরে দক্ষতার সাথে কাজ করতে পারে। তাদেরকে চাপিয়ে না রেখে তাদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখার স্বাধীনতা দিলে তারা তার প্রমাণ রাখতে পারে এবং পারবে আরো বিস্তৃতভাবে। তাছাড়া, অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে অনেক বেশি পরিবারের প্রতি দায়িত্বপ্রবণ হয়, অনেক বেশি কন্ট্রিভিউশন করতে পারে। লিঙ্গান্তর নয়, মানুষ হিসেবে স্বাধীনতা প্রয়োজন। সে স্বাধীনতা শতভাগ পেলে মেয়েরা গৃহ সমাজ রাষ্ট্রে আরো অধিক কন্ট্রিভিউশন করতে পারবে।