নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু সুস্থভাবে বেচে থাকার জন্য ১৯৯২ সাল থেকে ‘বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ’ পালন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী ২০১০ সাল থেকে সরকারিভাবে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তারপর থেকেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিএফএফ) যৌথভাবে এই সপ্তাহ পালন করে আসছে। প্রায় বিশ বছর আগে ওয়াবা (ডাব্লিইএবিএ) মাতৃদুগ্ধ দানকে সংরক্ষণ, প্রচারণা ও সহায়তা দানের লক্ষ্যে এই সপ্তাহ পালনের উদ্যোগ নেয়। প্রতিবারের মতো করে এই বছরেও ২০ আগস্ট থেকে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। এর প্রতিপাদ্য ছিল, ‘মায়ের দুধে শিশুর হাসি/মা তোমাকে ভালোবাসি’। প্রতিবছরের মতো এবছরও যথারীতি বাংলাদেশে এই সপ্তাহ পালন করা হয়। এই ধারাবাহিকতার ফলেই বাংলাদেশ বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ প্রবণ দেশের মধ্যে দ্বিতীয় সারিতে উন্নীত হয়েছে। ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ৬০০টি হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মূল্যায়নের মাধ্যমে বিএফএইচআই’তে রূপান্তর করা হয়। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে মা ও পরিবারকে সচেতন করতে বলা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে- জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো, ছয় মাস পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো, এমনকি পানিও খাওয়ানো যাবে না। ছয় মাস পর অন্যান্য খাবার প্রয়োজন মতো দেয়া, সাথে দুই বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ চালিয়ে যাওয়া। অসুখের ক্ষেত্রে মা ও শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খাবার দেয়া। জন্মের এক ঘন্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়ালে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত শিশুর মৃত্যুরোধ করা যায়, ছয় মাস পর্যন্ত খাওয়ালে ১৩ শতাংশ অনূর্ধ্ব পাঁচ বছর বয়সী শিশুর মৃত্যু রোধ করা যায়।
