স্বাক্ষর জাল করে অস্ত্রের অবৈধ লাইসেন্স
ইত্তেফাক রিপোর্ট
স্বাক্ষর জাল করে অস্ত্রের অবৈধ লাইসেন্স প্রদান, গ্রহণ এবং ব্যবহারের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমানের তদন্ত প্রতিবেদন যাচাই বাছাই করে গতকাল বুধবার কমিশন এ চার্জশিট অনুমোদন করে। এ মামলার এজহারে একজনের নাম থাকলেও তদন্তে অপর ৩৯০ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। ফলে ৩৯১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করা হয়েছে। শিগগিরই বিচারিক আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হবে। উল্লেখ্য, স্বাক্ষর জাল করে অস্ত্রের অবৈধ লাইসেন্স প্রদান, গ্রহণ এবং ব্যবহারের অভিযোগে গত বছরের ১৮ মে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা অমূল্য চন্দ্র রায় রংপুর কোতয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় শুধুমাত্র রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানার (জেএম শাখা) অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. শামসুল ইসলামকে আসামি করা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, আসামি শামসুল ২০১১ সালের ১৭ মে থেকে ২০১৭ সালের ১৬ মে পর্যন্ত ডিসি কার্যালয়ের জুডিশিয়াল মুন্সিখানা (জেএম) শাখায় অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত ছিলেন। এ সময় তার দায়িত্ব ছিল লাইসেন্স শাখায়। তিনি আগ্নেয়াস্ত্রের ভলিউম নিজ হেফাজতে সংরক্ষণ করতেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবর লাইসেন্স প্রত্যাশীদের করা আবেদন গ্রহণ করে নোটশিটের মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনারের কাছে উপস্থাপন, পুলিশ প্রতিবেদন গ্রহণ, প্রত্যাশীদের সাক্ষাত্কার অনুমোদিত হলে ফরমে এবং ভলিউমের পাতায় প্রয়োজনীয় তথ্যসহ প্রস্তুত করে জেএম শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর গ্রহণপূর্বক ভলিউমের পাতায় প্রাপ্তি স্বীকার গ্রহণ করে লাইসেন্স প্রদান এবং নবায়ন করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ওই দায়িত্ব পালনকালে শামসুল অবৈধভাবে আর্থিক লাভবান হয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের ২১টি ভলিউমের ৩৯০ টি লাইসেন্সের পুরোনো পাতা ছিঁড়ে নতুন পাতা সংযোজন করেন। জালিয়াতি করে তত্কালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আরেক অফিস সহকারী অনুকূল চন্দ্রের স্বাক্ষর জাল করে ৩৯০ জন ব্যক্তির নামে ভুয়া বা জাল লাইসেন্স ইস্যু করেন তিনি। তদন্তকালে দুদকের কর্মকর্তা ৩৫৭টি লাইসেন্স, ৩৫৪টি অস্ত্র এবং ৪ হাজার ৩৮টি কার্তুজ জব্দ করেন।
