আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের ৯ সদস্য গ্রেফতার

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২২:৫০
রাজধানীতে উগ্রপন্থি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের ৯ সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম শনিবার রাতে নগরীর মোহাম্মদপুর, বাড্ডা, যাত্রাবাড়ী, সাভার, সেন্ট্রাল রোড ও এ্যালিফেন্ট রোড এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে। গতকাল রবিবার তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সাইফুল ইসলাম (২১), আবু হানিফ (২৩), আমিনুল ইসলাম (২৫), জাহিদুল ইসলাম (২৭), আজাদ (২৮), আসাদুল্লাহ (২৯), জুন্নুন শিকদার (২৭), কাজী মোহাম্মদ রেজোয়ান (৩০) ও নাইমুল হাসান (২৮)। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে ৩টি ল্যাপটপ, ২টি কম্পিউটার, হাতে লেখা ও আঁকা বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, গ্রেনেড ও রকেট সংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, ভিডিও ক্যামেরাসহ অন্যান্য মালামাল। গত ১২ আগস্ট বরগুনা থেকে আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দিনসহ ৩১ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন ঢাকার মোহাম্মদপুরে জসীমের বাসা ও অফিসে অভিযান চালিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, সিডিসহ উস্কানিমূলক বই উদ্ধার করা হয়। জসীমের কার্যালয়ে দুই মন্ত্রীসহ ১২ জনের তালিকা পাওয়া যায়। যাদেরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জসীমউদ্দিনকে বর্তমানে ঢাকায় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, আল কায়েদার আদর্শ অনুসরণ করে তারা কার্যক্রম চালাচ্ছে। সহকারী পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, আনসার উল্লাহ বাংলা টিম মূলত চারটি ধাপে কাজ করে থাকে। এগুলো হচ্ছে- দাওয়াহ, ইদাদ, রিরাত ও কতল। আনসার উল্লাহ বাংলাটিমের অপারেশনাল প্রধান হচ্ছেন ইজাজ হোসেন। তিনি ২০০৮ সালে সামরিক প্রশিক্ষণ ও জঙ্গি কার্যক্রমে দীক্ষিত হওয়ার জন্য পাকিস্তানে পালিয়ে গেছেন। তিনি এর আগে জামায়েতুল মুসলিমিনের বাংলাদেশের আমির ছিলেন। বছরে তিনি ২-৩ বার বাংলাদেশে আসেন এবং বাংলাদেশে তার জিহাদী নেটওয়ার্ককে সক্রিয় করেন। জামায়েতুল মুসলিমিনের আন্তর্জাতিক আমির হচ্ছেন জর্ডান বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক শেখ আবু ইসা আলী আররিফাই আল হাশেমী আল কোরাইশি ওরফে আবু ইসা। তিনি ২০০২ সালে বাংলাদেশে আসেন এবং বারিধারার বসুন্ধরার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আশপাশে কোন জায়গায় একটি দোতলা বাড়ী ভাড়া করে তার কার্যক্রম শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি বৃটেনে ফিরে যান এবং লন্ডন পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। এর ফলে বাংলাদেশে জামায়েতুল মুসলিমিনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। জামায়েতুল মুসলিমিনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হিজরতের উদ্দেশ্যে ২০০৮ সালে তেহজীব, রেজওয়ান শরীফ, মইনউদ্দিন শরীফ ইয়েমেনে গমন করেন এবং আল কায়েদা নেতা আনোয়ার আল আওলাকির ঘনিষ্ঠ সহযোগী সামির খানের সাথে যোগাযোগের কারণে এবং জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেয়ার সময় ২০০৯ সালে ইয়েমেনে গ্রেফতার হন। রাজীব শরীফ ইংল্যান্ডে বৃটিশ এয়ারলাইন্স উড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টাকালে গ্রেফতার হয়ে ২০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হন। জসিমউদ্দিনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রেজয়ানুল হক নাফিস যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক উড়িয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার দায়ে গ্রেফতার হয়ে সম্প্রতি ৩০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। গ্রেফতারকৃত জুন্নুন শিকদার নর্থ সাউথ বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং পরে পড়াশুনা বাদ দিয়ে দাওয়াত কার্যক্রম প্রচারের উদ্দেশ্যে দারুল ইহছান বিশ্ব বিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হন। ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী রেদওয়ানুল আজাদ রানার সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। যেদিন ব্লগার রাজীব হায়দারকে হত্যা করা হয় সেদিনও তার সাথে যোগাযোগ হয়। রেজুওয়ান শরীফ মইনউদ্দিন শরীফের ভাই এবং জসীমউদ্দিন রাহমানীর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। নাইমুল হাসান আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের অপারেশনাল প্রধান ইজাজ হোসেনের ভাই এবং তিনি জসীমউদ্দিন রাহমানীকে কম্পিউটার সংক্রান্ত টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে থাকেন। সাইফুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, আলী আজাদ জসীমউদ্দিনের ওয়েবসাইটে তার বক্তব্য ও ছবি আপলোড ইত্যাদির কাজ করে থাকেন। গ্রেফতারকৃত আবু হানিফ, আমিনুল ইসলাম, আসাদুল্লাহ জসীমউদ্দিন রাহমানীর সাথে জঙ্গি তত্পরতায় লিপ্ত এবং তাকে বিভিন্ন তথ্যগত ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকে। জুন্নুন শিকদার ও রেজুয়ান শরীফ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞানের ছাত্র ছিলেন। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় সন্ত্রাস বিরোধী ও আইসিটি অ্যাক্ট-এ নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।