গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে প্রথম ক্ষুদ্র ঋণ চালু করেছেন বলে প্রচার করা হলেও তা ঠিক নয়। এর আগে আখতার হামিদ খান প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমী (বার্ড) ও ফজলে হাসান আবেদের ব্র্যাক দেশে ক্ষুদ্র ঋণের প্রচলন শুরু করে। তবে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ঋণ জনপ্রিয় করার পেছনে এই তিনজনেরই বিশেষ অবদান রয়েছে। ফজলে হাসান আবেদ নিজের সম্পদ বিক্রি করে ব্র্যাকের তহবিল সৃষ্টি করলেও গ্রামীণ ব্যাংকে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত কোন সম্পদ নেই। এই ব্যাংকের পুরো তহবিল ও আমানত দেশের গরীব মানুষ এবং সরকারের। গতকাল ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ে জাতীয় সেমিনারের সমাপনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ১৯ শতকের শুরুতে সঞ্চয় ও ক্ষুদ্র ঋণের ধারণার সৃষ্টি হয়। তখন থেকে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে এ দেশের মানুষ এতে অভ্যস্ত। পরবর্তীতে ৬০ এর দশকে ড. আখতার হামিদ খানের উদ্যোগে সঞ্চয় প্রকল্প এবং ক্ষুদ্র ঋণ চালু হয়। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ড. আখতার হামিদ খানের উদ্যোগেই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ক্ষুদ্র ঋণ চালু হয় বলে তিনি দাবি করেন।
রাজধানীর আগারগাঁও-এ পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘ক্ষুদ্র ঋণ ও উন্নয়ন’ শীর্ষক দুদিনব্যাপী জাতীয় সেমিনারের গতকাল ছিল সমাপনী দিন। ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফাইন্যান্স (আইএনএম) এ সেমিনারের আয়োজন করে। পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে সমাপনী সেশনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইএনএমের নির্বাহী পরিচালক এম এ বাকী খলীলী। এ সেশনে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএনডিপির বাংলাদেশ পরিচালক পাওলিন তামেসীস ও জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি ড. তাকাও তোদা। এ সেশনে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক উন্নয়ন সহযোগী ডিএফআইডির বাংলাদেশের গ্রোথ ও প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্টের টিম লিডার ও সিনিয়র পলিসি অ্যাডভাইসর শাহনিলা তাজরীন আজহার সেমিনারের কার্যকারিতা তুলে ধরেন।
সেমিনারে পাওলাও তামেসিস বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের জন্য জিডিপি দুই থেকে তিন শতাংশ বাড়ে। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের সাফল্য রয়েছে উল্লেখ করতে যেয়ে তিনি কয়েকটি প্রকল্পের উদাহরণ দেন। রিয়োপা প্রকল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২৫ হাজার নারী উপকৃত হয়েছে।
ড. তাকাও তোদা বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য চোখে পড়ার মত। বিশ্বের ক্ষুদ্র ঋণের মাধ্যমে উন্নয়ন করা ফিলিপাইন ও কম্পোডিয়ার চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। জাইকা ১৯৯৫ সালের আগস্ট মাসে প্রথম ক্ষুদ্র ঋণের উন্নয়নে সহায়তা করেছে বলে জানান তিনি। এ সহায়তা কাজে লেগেছে বলে মনে করেন তিনি।
কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ বলেন, ক্ষুদ্র ঋণ অনেক বছর আগে শুরু হলেও বর্তমানে বাংলাদেশে আধুনিক ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এটাকে তিনি দ্বিতীয় প্রজন্মের ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম বলে উল্লেখ করেন ।
সেমিনারে বাকী খলীলী বলেন, দুদিনব্যাপী এ সেমিনারে ক্ষুদ্র ঋণের উপর জোর না দিয়ে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জোর দেয়া হয়েছে। আর আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে ক্ষুদ্র ঋণদান প্রতিষ্ঠানগুলো।
