‘অযোধ্যা যাত্রা’ ঠেকাতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের শীর্ষনেতাদের আটক

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০১
ভারতের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের দাবীতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) ১৯ দিনব্যাপী ‘চৌরাশি কোশি’ যাত্রা কর্মসূচী ঠেকাতে পরিষদের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সাম্প্রদায়িক উস্কানি সৃষ্টির আশঙ্কায় উগ্রবাদী সংগঠনটির এই কর্মসুচী নিষিদ্ধ করেছে উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টি সরকার। গতকাল সকাল সাড়ে নয়টায় অযোধ্যার সার্যু নদীর ঘাটে পুজা দেওয়ার মাধ্যমে ৩শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ এই যাত্রা শুরু করার পরিকল্পনা করেছিল ভিএইচপি। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে অটল ছিল সংগঠনটি। শীর্ষনেতা অশোক শিংঘাল এবং প্রাভিন টোগাদিয়াসহ প্রায় ১ হাজার ৭০০ ভিএইচপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে উত্তর প্রদেশ পুলিশ। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যাবস্থা কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। খবর এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। সূত্র জানায়, অযোধ্যা থেকে শুরু হয়ে উত্তর প্রদেশের ছয় জেলা ঘুরে আবার অযোধ্যায় এসে শেষ হওয়ার কথা ১৯ দিনের এই পদযাত্রা। উত্তর প্রদেশের যে ছয়টি জেলার মধ্য দিয়ে ‘চৌরাশি কোশি’ যাওয়ার কথা সেসব এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম জনগোষ্ঠি বসবাস করে। ফলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টেরও আশঙ্কা ছিল সরকারের। গতকাল সকালে যাত্রা শুরুর লক্ষ্যে সার্যু নদীর পাড়ে পুজার উদ্যোগ নেওয়ার সময় ভিএইচপির অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা প্রাভিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর কয়েক মিনিট পরই লক্ষ্নৌ বিমানবন্দর থেকে ভিএইচপি’র আন্তর্জাতিক সভাপতি অশোক শিংঘালকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে বিজেপির এমপি রাম বিলাস বেদান্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও যাত্রা শুরু করার হুঁমকি দিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর ভিএইচপির এমনই একটি কমসূচি চলাকালে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল পরিষদের উগ্রবাদি সদস্যরা।