গত এক বছরে র্যাব-৮’র অধীন বিভিন্ন সিপিসি ও সরাসরি ব্যাটালিয়নের অভিযানে প্রায় ৪ কোটি টাকার মাদক দ্রব্য আটক করা হয়েছে। মাদকসহ গ্রেফতার করা হয়েছে ৫৩৭ জন মাদক ব্যবসায়ীকে। এ সময়ে জলদস্যু দমনে সুন্দরবনসহ বঙ্গোপসাগরের মোহনা ঘেঁষা বিভিন্ন এলাকায় জলদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে র্যাব-৮। সুন্দরবনের শীর্ষ ৪টি জলদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ মোট ২৮ জলদস্যু ও বনদস্যু র্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। জলদস্যুদের আস্তানা থেকে ৪২ জন অপহূত জেলেকে উদ্ধার ও ৯ জলদস্যুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র্যাব-৮। বরিশালে ব্যাটালিয়ান স্থাপনের পর এ বিভাগের ৬ জেলা ছাড়াও গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরিয়তপুর ও রাজবাড়ি জেলায় জঙ্গি ও মাদক দমনে র্যাব ব্যাপক সাফল্যের কারণে জনপ্রিয়তা পায়। র্যাব-৮ গঠনের পর এ অঞ্চলের শীর্ষ সন্ত্রাসী, জলদস্যু ও বনদস্যুসহ বিভিন্ন আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য র্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়।
র্যাব-৮’র বর্তমান কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল ফরিদ আহমেদ জানান, গত এক বছরে ৩৯ হাজার ৭২৩ বোতল ফেন্সিডিল, ৬৭৪ কেজি গাজা, ৯ হাজার ৬৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭ হাজার ৮৩৭ কেজি হেরোইন, ৪৬ বোতল বিদেশি মদ, ২০ ক্যান বিয়ার, ভাং সাড়ে ৩১ কেজি, ৮৬৫ লিটার দেশি মদ ও ২৭টি এ্যাম্পুল নেশা জাতীয় ইনজেকশন আটক করা হয়েছে। এর অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ কোটি ৭২ লক্ষ ৭০ হাজার ৪১০ টাকা। অস্ত্র, গোলাবারুদসহ গ্রেফতার করা হয়েছে ৫৩ জনকে। উদ্ধার করা হয়েছে ১৪টি পিস্তল, ৫টি বিদেশি রিভলবার, ৩টি পাইপগান, ৩৪টি এলজি, ১৭টি ওয়ান শুটারগান, এসবিবিএল ১২টি, ২টি ডিবিবিএল, ৪টি .৩০৩ রাইফেল, ২২ রাইফেল দুটি, একনালা বন্দুক ৬টি, দু’নালা বন্দুক ১টি, এয়ারগান ৯টি, লাঞ্চার ১টি, গুলি ও কার্তুজ ৪৯৭ রাউন্ড, ৩৩টি ককটেল বোমা, ৫টি ম্যাগাজিন, ৪৮টি দেশিয় ধারালো অস্ত্র।
এদিকে র্যাব-৮র সিপিসি-১-এর কমান্ডার ক্যাপ্টেন বাশার জানিয়েছেন, বরিশাল ও ঝালকাঠী জেলায় নতুন করে জঙ্গিদের সংঘটিত হওয়ার তথ্য পেয়েছে র্যাব। এ কারণে জলদস্যুদের পাশাপাশি জঙ্গিদের নিয়ে নতুন ভাবনায় পড়তে হচ্ছে।
