সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও শেষ পর্যন্ত দলীয়করণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চলতি মেয়াদের শেষ অর্থবছরে নির্বাচনকে মাথায় রেখে এবার সারাদেশে দশ হাজার ‘রাজনৈতিক’ নলকূপ বিতণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সরকার দলীয় এমপিদের কাছ থেকে এ তালিকা নেয়া হবে আর যেখানে এমপি নেই সেখানে সরকার দলীয় নেতাদের কাছ থেকে স্থানের নাম নেয়া হবে। নাম সংগ্রহ করে একটি তালিকা করা হবে। সে তালিকা অনুযায়ী কেন্দ্র থেকেই বরাদ্দ দেয়া হবে এসব নলকূপ। এজন্য এ ধরনের বিতরণ ব্যবস্থা বা নলকূপকে ‘রাজনৈতিক’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন অনেকেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. নুরুজ্জামান কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, নিয়মনীতির বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। আর এমন কিছু করা হচ্ছে বলে তার জানাও নেই। তিনি বলেন, নলকূপ বিতরণে উপজেলা ওয়াটসান কমিটি ( ওয়াটার এন্ড স্যানিটেশন) দায়িত্ব পালন করে থাকে। রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু করা হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করলেও বলেন যে সরকারটিইতো রাজনৈতিক। সুতরাং তার সকল কাজ রাজনৈতিক না হওয়াটাই অস্বাভাবিক নয় কী?
অপরদিকে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ ইত্তেফাককে বলেছেন, সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্ত উপজেলা পরিষদ আইন ও বিদ্যমান বিধানের পরিপন্থি। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে উপজেলা ওয়াটসান কমিটি রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এ কমিটির সভায় নলকূপ কোথায়, কাকে দেয়া হবে তা নির্ধারণ করার কথা। কিন্তু গত বছর পর্যন্ত সরকারের প্রশাসনিক আদেশ মতে এমপিদের ৫০ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে দেয়া হতো। অর্থাত্ উপজেলা পর্যায়ে মোট বরাদ্দ করা নলকূপের ৫০ ভাগ এমপিদের পরামর্শের জায়গায় বা ব্যক্তির অনুকূলে দেয়া হতো। এবার যদি সম্পূর্ণটাই কমিটিকে পাস কাটিয়ে কেন্দ্র থেকে তালিকা করে দেয়া হয় তবে তা হবে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও তাদেরকে উপেক্ষা করা । এ ধরনের সিদ্ধান্তে সরকারের শেষ সময়ে নির্বাচনের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নির্বাচনকে মাথায় রেখে এবার নলকূপ বিতরণে কেন্দ্র থেকে তালিকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এমপি-সরকারি দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের পছন্দের জায়গায় এসব নলকূপ বসানো হবে।
সূত্র জানায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে কয়েকশ’ ব্যক্তিগত আবেদন রয়েছে। প্রতিদিনই অনেকে আবেদন নিয়ে আসেন। অতীতে সাধারণভাবে এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক সময় নলকূপ বরাদ্দ দেয়া হতো। কিন্তু এবার সে সুযোগ থাকছে না। কারণ বরাদ্দের পুরোটাই কেন্দ্রীয় তালিকা অনুযায়ী বিতরণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ব্যক্তিগতভাবে আবেদনকারী জনৈক ব্যক্তি গতকাল সোমবার জানান, তিনি একটি আবেদন নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে বলা হয়, মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করতে। মন্ত্রণালয়ে গেলে একজন কর্তাব্যক্তি জানান, এবার কিছু করার নেই। এর কারণ কি বলেননি। তবে তাকে বলা হয়েছে, মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দেশে না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে নতুন কিছুই করা যাবে না। কারণ সিদ্ধান্ত হয়েছে সব নলকূপই কেন্দ্রীয়ভাবে বিতরণের। তবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে।
