বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে গঠিত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যেই গ্রামীণ কমিশনের সুপারিশসমূহ নির্বাচন করা হবে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। গ্রামীণ কমিশনের সদস্য আজমালুল হোসেন কিউসি’র প্রতিবেদনটি আংশিক জানিয়ে তিনি বলেন, তবে প্রতিবেদনটির বিষয়ে আমি সন্তুষ্ট। গ্রামীণ ব্যাংকের বিষয়ে সরকারের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ ব্যাংককে রক্ষা করা এবং এর বৈশিষ্ট্য ও এখানে যারা কর্মরত রয়েছে তাদের স্বার্থ রক্ষা করা। এটা করতে গিয়ে অন্য কোথাও ছাড় দিতে হতে পারে।
গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ‘আন্তর্জাতিক চাপ’ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইউনূস সাহেবই এগুলো করিয়েছেন। প্রেসার ফিল করেছি এ কারণে যে, একেক দিন একেক দেশের মন্ত্রী ও কংগ্রেসম্যানরা চিঠি লেখেন। আর তরা সেটা প্রকাশ্যে লেখেন। তাদের এসব চিঠির জবাব দিতে গিয়ে আমার অনেক সময় নষ্ট হয়েছে।’
গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ড. ইউনূসের প্রচারণা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই ড. ইউনূস এটা করছেন। তিনি রাজনীতিবিদ কিন্তু রাজনীতিবিদদের পোশাক পরেন না।’
তিনি আরো বলেন, ড. ইউনূস যখনি বিপদে পড়েছেন সরকার সাহায্য করেছে, আর যখন সুখে ছিলেন তখন সরকারের কাছে আসেননি। যা খুশি তা-ই করেছেন। সেই হিসেবে সরকারকে এখন দোষারোপ করা হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের দ্বিতীয় লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামীণ ফোন। গ্রামীণ ফোনের লাইসেন্স অবৈধ। লাইসেন্সটা একজন নিয়েছেন আর ব্যবহার করছেন আরেকজন। কমিশনের প্রতিবেদনেও এ কথা বলা হয়েছে। কঠোরভাবে আইন অনুসরণ করা হলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। কিন্ত যেহেতু এটি দেশের একটি বৃহত্ বৈদেশিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সেজন্য গ্রামীণের লাইসেন্স বাতিল করার কথা একবারও বলা হয়নি। এছাড়া গ্রামীণ ফোনের অধিকাংশ শেয়ার হচ্ছে টেলিনরের। তাকে কীভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে ? তাছাড়া গ্রামীণ ফোন তো গ্রামীণ ব্যাংককে চেনে না, তারা চেনে গ্রামীণ টেলিকমকে। তাদের সম্পর্ক হচ্ছে ড. ইউনূসের সঙ্গে। গ্রামীণ ফোনের আরো গভীরে গিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে কমিশন।
‘গ্রামীণ ব্যাংককে সরকারি প্রতিষ্ঠান’ দাবি করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৯ সালে সরকারি অর্থায়নেই গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এর সকল শেয়ার সরকারের। কিন্তু ইউনূস সাহেব এটাকে নিজের প্রচারণায় ব্যবহার করেছেন। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের নাম যেভাবে ব্যবহার করেছেন এবং ব্যাংকের পরিচালকদের জন্য নিজে যে বিধান চালু করেছেন তা অবৈধ।
গ্রামীণ ফোনের কাছ থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রাপ্য টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ইউনূস সাহেব জানেন। আর এখানে টাকা লেনদেনের প্রক্রিয়াটিও গোলমেলে। কমিশন পুরো বিষয়টি এখনো বের করতে পারেনি।
