ভাণ্ডারিয়ার ইলিশ শিকারী জাহাঙ্গীরকে অপহরণ করেছে জলদস্যুরা

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৬
ইলিশের ভরা মৌসুমে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে জলদস্যুদের হাতে অপহূত হয়েছে পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার মাদার্শী গ্রামের জাহাঙ্গীর (৫৫) নামে এক জেলে। তাকে অক্ষত ফিরে পেতে হলে মুক্তিপণ হিসেবে গুণতে হবে ৫ লাখ টাকা। ইলিশের মৌসুম চলছে তাই লোন করে টাকা সংগ্রহের পর প্রায় এক পক্ষ (১৫দিন) পূর্বে জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের মাদার্শী গ্রামের জাহাঙ্গীর ৭/৮জন জেলেসহ ভাড়ায় একটি মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরে ফিরে আসার সময় সাগরে বর্তমানে দু’গ্রুপ জলদস্যু রয়েছে তাদের মধ্যে এক গ্রুপ বোর্ডে থাকা ৩ লক্ষাধিক টাকার মাছসহ ট্রলার আটক করে। এর মধ্যে জাহাঙ্গীর টোকেন না নেয়ায় (জেলার পারেরহাট মত্স্য বন্দর থেকে সাগরে থাকা জলদস্যুদের মাসোহারার টাকা পরিশোধের পর পাওয়া যায় একটি টোকেন, যা সাথে থাকলে জেলেদের সমস্যা হয় না) তাকে আটক করে প্রথমে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে জাহাঙ্গীরকে আটক রেখে বাকিদের অন্য ট্রলারে উঠিয়ে দিলে তারা ফিরে আসে। শর্ত বেঁধে দেয়া হয় তারা ফিরে এসে দাবিকৃত টাকা পাঠালে জাহাঙ্গীরকে ছেড়ে দেয়া হবে এবং এ কথা ফাঁস হলে তাদেরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। স্ত্রী, ১ মেয়ে ও ১ ছেলে নিয়ে জাহাঙ্গীরের সংসার এ মাছ ধরার উপর নির্ভর করেই চলে। দিন যত বেশি হচ্ছে জাহাঙ্গীরের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও মুক্তিপণের টাকাও বেড়ে ৫ লাখে আসছে। আটকস্থান থেকে মোবাইলে নির্যাতনের শব্দ শোনানো হয় এবং টাকা না পেলে ছাড়া হবে না এবং ঘটনা কাউকে বললেও মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। সোমবার সরেজমিনে গেলে জলদস্যুদের হাতে আটক জাহাঙ্গীরের স্ত্রী মাজেদা বেগম, মেয়ে জুঁই ও কিশোর ছেলে হূদয় বাকরুদ্ধ কোন তথ্য সাংবাদিকদের দিতে এমন কি ছবি তুলতেও রাজি হননি।