ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া ও সাগরে টনে টনে ইলিশ ধরা পড়লেও জেলার অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ একেবারেই অপ্রতুল। ধৃত মত্স্যরাজি নদী থেকেই চলে যায় দেশের বড় বড় বাজারগুলোতে এবং একটি ভিন দেশে। নদী থেকে ডাঙ্গায় তোলার কোন সুযোগই পায় না মহাজন থেকে চড়াসুদে দাদন গ্রহণকারী অসহায় জেলেরা। অতিরিক্ত সুদ গ্রহণকারী এই সমস্ত মহাজন স্থানীয় বাজারে কিছুমাত্র মাছ সরবরাহ করবার তাগিদও অনুভব করে না। বেশি মুনাফার আশায় মাছ পাঠিয়ে দেয় বাইরে অত্যন্ত কৌশলে। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সামান্য যে ইলিশ পাওয়া যায় তা ওজনে আধা কেজির মতো। দামও কম নয়, প্রতিটি বিকিকিনি হচ্ছে সাড়ে চার থেকে পাঁচশ’ টাকায়।
এখানে বড় ইলিশ যেন সোনার হরিণ। তবে গ্রামীণ বাজারগুলোতে জাটকার ছড়াছড়ি লক্ষণীয়। ৩১ মে’র পর থেকে নদীতে জাটকা থাকার কথা নয়। অথচ জাটকা ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য এমনটা হচ্ছে। কাজেই ইলিশ রক্ষার্থে সারাবছরই জাটকা নিধন রোধ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। জেলা মত্স্য কর্মকর্তা প্রীতিশ কুমার মল্লিক জানায়— গাঙ্গেয় অববাহিকার নিম্নাঞ্চল দ্বীপ জেলা ভোলায় বছরে মাছের উত্পাদন ১ লাখ ৩২ হাজার ১৫৫ মে.টন। এরমধ্যে ইলিশের পরিমাণ ৮৮ হাজার মে.টন। আর অভ্যন্তরীণ চাহিদা হচ্ছে ৪০ হাজার ৩২০ মে.টনের মত।
