আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেরা সলিউশন দিচ্ছে ইরা ইনফোটেক

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৩, ২১:২৫
ইন্টারনেটের এই যুগে ব্যাংক, বীমা থেকে শুরু করে সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানেই শুরু হয়েছে ডিজিটাইজেশন। ফলে এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নানা ধরনের আইটি সলিউশন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশেও ডিজিটাইজেশনের ছোঁয়া লেগে গেছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠানই এখন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আইটি সলিউশন নিয়ে হাজির হচ্ছে। এরকমই একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ইরা ইনফোটেক লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ব্যাংকিং সলিউশন নিয়ে কথা হয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী মো. সিরাজুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, ‘২০০২ সালের নভেম্বরে ব্যাংক এশিয়া, র্যাংকস আইটিটি ও দুবাইভিত্তিক ইটিএ ইনফোটেকের যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় ইরা ইনফোটেক। এ পর্যন্ত কোম্পানিটি ডজনখানেক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোর ব্যাংকিং সলিউশনসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই আইএসও সার্টিফায়েড, ইনফরমেশন সিকিউরিটি ম্যানেজেমেন্ট সার্টিফায়েড কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।’ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা এখন বিশ্বমানের। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যেকোনো সলিউশন আমরা দিতে সক্ষম। আমাদের রয়েছে বিশ্বমানের দক্ষ প্রোগ্রামার এবং ইঞ্জিনিয়ার। তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে রয়েছে আমাদের দেশের মেধাবীরা। আইটি ক্ষেত্রে এখন আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। গুগল, ইন্টেল, মাইক্রোসফটের মতো সেরা কোম্পানিগুলোতে আমাদের ছেলে-মেয়েরা অনেক দক্ষতার সাথে কাজ করে।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তিতে আমাদের সক্ষমতা বাড়লেও এখনও আমাদের দেশপ্রেম এবং জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তুলতে হবে। এখনও অনেক প্রতিষ্ঠান টেকনোলজি সলিউশনের জন্য বিদেশি কোম্পানির দ্বারস্থ হচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে সার্ভিস সাপোর্ট না পেয়ে আমাদের কাছে আসছেন। দেশের ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাজ বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে করা হলে তথ্যের নিরাপত্তা কতটুকু থাকে, তা সবাই জানেন। আর তাদের সার্ভিস দেওয়ার জন্য ভারত, সিঙ্গাপুর, হংকং থেকে লোক এসে দ্রুত সার্ভিস সাপোর্ট দিতে পারে না।’ সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সরকারের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রজেক্ট সফলভাবে বাস্তবায়ন করছি, যার নাম ‘একটি বাড়ি একটি খামার’। এর মাধ্যমে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কীভাবে স্বাবলম্বী করা যায় তার পুরো প্রক্রিয়া অটোমেটেড করেছি।’ বিভিন্ন ধরনের আইটি সলিউশন রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটির। এগুলোর মধ্য থেকে কয়েকটি সম্পর্কে সংক্ষেপে জানানো হলো এখানে। আই-স্টেলার ব্রাউজারনির্ভর একটি কোর ব্যাংকিং সলিউশনের নাম আই-স্টেলার। সব ধরনের ব্যাংকের জন্য এটি একটি পূর্ণাঙ্গ সলিউশন। এটি ওরাকলের সর্বশেষ সংস্করণের সাথে কাজ করতে সক্ষম। সেন্ট্রাল একটি ওয়ার্কস্টেশনে ডাটাবেজ, অ্যাপ্লিকেশন রেখে সুবিশাল ল্যান বা ওয়ান নেটওয়ার্কে এটি কাজ করে থাকে। এর রয়েছে ৫টি মডিউল—ডিপোজিট মডিউল, পেমেন্ট মডিউল, কালেকশন মডিউল, লোন অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মডিউল এবং ফরেন ট্রেড মডিউল। প্রতিটি মডিউলেই রয়েছে সর্বাধুনিক সব ফিচার। বর্তমানে ব্যাংক এশিয়া, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠিত সব ব্যাংক এই কোর ব্যাংকিং সলিউশনটি ব্যবহার করছে। হিকমাহ অনলাইন ইসলামী ব্যাংকিং সলিউশন হিসেবে ইরা ইনফোটেকের রয়েছে হিকমাহ। শরীয়াহভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ ইসলামী অনলাইন ব্যাংকিং সলিউশনের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে এটি তৈরি করা হয়েছে। রিয়েল টাইমে এটি অনলাইন শরীয়াহ ব্যাংকিংয়ের সুবিধা প্রদান করে থাকে। সেন্ট্রালাইজিং এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের পাশাপাশি এটি যেকোনো ব্রাঞ্চ থেকেই ব্যাংকিং পরিচালনা করার সুযোগ দিয়ে থাকে। এর ইন্টারফেস যেমন সহজ, তেমনি এটি নিরাপত্তাও প্রদান করে থাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের। গ্লোবাল প্যারামিটার, জেনারেল ব্যাংকিং, ইনভেস্টমেন্ট, জেনারেল লেজার, ট্রেড ফাইন্যান্স, ডেলিভারি চ্যানেল প্রভৃতি মডিউল রয়েছে হিকমাহ’র। বর্তমানে সোনালী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং ব্যাংক এশিয়া ব্যবহার করছে এই ইসলামী ব্যাংকিং সলিউশন। ই-এমআইসিআর স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেক প্রক্রিয়াকরণের সলিউশন হিসেবে ইরা ইনফোটেক তৈরি করেছে ই-এমআইসিআর। সময়ের সাথে সাথে ব্যাংকগুলোয় ইলেকট্রনিক পেমেন্টের পরিমাণ বাড়লেও এখনও চেকের ব্যবহার রয়েছে সর্বত্র। তাই এই ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় একটি অনলাইন স্বয়ংক্রিয় চেক প্রক্রিয়াকরণ সলিউশন হিসেবে তৈরি করা হয়েছে একে। ফ্রন্ট এবং ব্যাক অফিস অপারেশনের জন্য এটি ওরাকল ব্যবহার করে। বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটেড অপারেটিং সিস্টেম সমর্থন করে এটি। দ্রুতগতিতে কাজ করতে সক্ষম এই সলিউশনে রয়েছে তিনটি মডিউল—আউটওয়ার্ড ক্লিয়ারিং, ইনওয়ার্ড ক্লিয়ারিং এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ মডিউল। এই সেবার গ্রাহক হিসেবে রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। নেট ব্যাংকিং সময়ের সাথে সাথে গ্রাহকদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহারের হার বাড়ছেই। এই খাতের একটি পূর্ণাঙ্গ এবং নিরাপদ সলিউশন হিসেবে ইরা ইনফোটেক তৈরি করেছে নেট ব্যাংকিং। এটি গ্রাহকদের সপ্তাহের ৭ দিনে ২৪ ঘণ্টা ব্যাংকিংয়ের সুবিধা প্রদান করে। এটি আইএসও কমপ্লায়েন্স এবং ২৫৬-বিট এসএসএল সমর্থন করে বলে এতে লেনদেন অত্যন্ত নিরাপদ। সহজে ব্যবহারযোগ্য এই সলিউশনে ব্যাংকিং, পেমেন্ট এবং কার্ড সংক্রান্ত কাজ করা যায়। সেভিং মডিউল, ডিপোজিট মডিউল, টেলার অপারেশন মডিউল, রেমিট্যান্স মডিউল, গ্যারান্টি মডিউল, এমআইএস মডিউলসহ এতে রয়েছে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুবিধা। ব্যাংক এশিয়া, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এটি ব্যবহার করে থাকে। অফশোর ব্যাংকিং বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সুবিধা নিয়ে রয়েছে অফশোর ব্যাংকিং নামের সলিউশনটি। বৈদেশিক মুদ্রা বা ঋণ গ্রহণ কিংবা যেকোনো চলতি, সঞ্চয়ী বা অন্য কোনো অ্যাকাউন্টে প্রবাসী কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ জমা করা এবং তাকে চেক, ড্রাফট বা অন্য কোনো উপায়ে স্থানান্তর করার সুবিধাই হচ্ছে অফশোর ব্যাংকিং। ইরা ইনফোটের অফশোর ব্যাংকিং সলিউশনে এই ধরনের ব্যাংকিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। রিয়েল টাইমে এন্ড-টু-এন্ড প্রসেসিংয়ের সুবিধা ছাড়াও এই সলিউশন ব্যবহারের দিক থেকেও অত্যন্ত সহজ। গ্লোবাল প্যারামিটার, লোনস অ্যান্ড অ্যাডভান্স, ইন্টার ব্রাঞ্চ অরিজিনেটিং/রেসপন্ডিং, স্টেশনারি মেইনটেন্যান্স, জেনারেল লেজার প্রভৃতি মডিউল রয়েছে এই সলিউশনের। ব্যাংক এশিয়া ব্যবহার করছে এই অফশোর ব্যাংকিংয়ের সলিউশনটি। এর বাইরেও অনলাইন ক্রেডিট অ্যাপ্রুভাল সিস্টেমের জন্য ওকাস, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার সলিউশন হিসেবে ডিজিপে, ইপিআর-এইচআর ও পে-রোল ব্যবস্থাপনার জন্য অরবিটস, দারিদ্র্য দূরীকরণে ই-বিদেশ, ফিক্সড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট, ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্ট, ব্যাসেল-২ প্রভৃতি সলিউশনও রয়েছে ইরা ইনফোটেকের। ব্যাংক এশিয়া, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক ছাড়াও এসব সলিউশনের গ্রাহকের তালিকায় রয়েছে আইএফআইসি ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, র্যাঙ্গস গ্রুপ, ডিএইচএস মটোরস হোন্ডা প্রভৃতি। ইরা ইনফোটের ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা বলতে গিয়ে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কোর ব্যাংকিং, এইচআর ম্যানেজমেন্ট, ইআরপি সলিউশনের সফলতার পর আমরা মূলত এখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে মনোনিবেশ করছি। এবং এনটি মানি লন্ডারিং সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করছি।’ তিনি বলেন, ‘দেশে পলিসি লেভেলে এন্টারপ্রেনারদের আরও বেশি স্বীকৃতি দেওয়া উচিত।’