চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে হত্যা

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩৪
মানুষ হবার জন্য সবচেয়ে কার্যকর পাঠশালা হচ্ছে নিজের ঘর। সবচেয়ে বড় শিক্ষক হচ্ছেন পিতামাতা। যে ঘরে সুশিক্ষার পরিবেশ থাকে, মা-বাবার জীবনাচরণে আদর্শ থাকে, নীতি-নৈতিকতা থাকে, সে ঘরের সন্তানরা সাধারণত বেপথু হয় না। তারপরও ব্যতিক্রম ঘটে। সন্তান নষ্ট হয়ে যায় সঙ্গদোষে। কাজেই সন্তান কার সঙ্গে মিশছে কোথায় যাচ্ছে সেদিকেও মা-বাবার খেয়াল রাখতে হবে। কারণ একটা চূড়ান্ত অবক্ষয়ের ভেতর দিয়ে চলছি আমরা। সামাজিক মূল্যবোধগুলোও এক এক করে ক্ষয়ে যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে মানুষের নৈতিকতার মান নেমে গেছে , সমাজ অপরাধ ও অপরাধীদের সঙ্গে আপস করে চলতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষয়িষ্ণু এই সামাজিক অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়টি যেন দিন দিন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। গত ১০ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় রাতের অন্ধকারে চলন্ত ট্রেনে বাইরে থেকে পাথর ছুড়ে নারী প্রকৌশলী প্রীতি দাশকে হত্যার খবর তারই প্রমাণ বহন করে। এ মর্মান্তিক ও হূদয়বিদারক খবর আমাদের সামাজিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপটিই যেন প্রকাশ করে । কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছাড়া দুর্ঘটনাবিহীন ট্রেনের যাত্রীর এভাবে প্রাণনাশ হবে তা ভাবতেও অবাক লাগে। চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ একটি অপরাধমূলক কাজ। পাথর নিক্ষেপকারীর শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড। এ সতর্কবাণী সামনে রেখেই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। প্রীতি দাশ নামের ঐ প্রকৌশলী তরুণী স্বামীর সঙ্গে ট্রেনে করে ঢাকা যাওয়ার পথে ভাটিয়ারী ভাঙা ব্রিজ এলাকা অতিক্রম করার সময় ট্রেনে ঢিল ছোড়া হয়। যারা এ জঘন্য কাজটি করেছে তারাও কোনো মা-বাবার সন্তান। সেই মা-বাবার প্রতি ধিক্কার ও নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ভাঙা ব্রিজ এলাকার সচেতন মানুষ তরুণদের এই বখাটেপনাকে নমনীয়ভাবে না দেখে এলাকাবাসীর দায়িত্ব হবে অপরাধীদের আইনের হাতে তুলে দেওয়া । চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছুড়লে মানুষের গায়ে না লাগলেও ট্রেনের জানালার কাচের ক্ষতি হয়। এটি রাষ্ট্রীয় সমপদের ক্ষতি। কাজেই এটিও বড় ধরনের অপরাধ। এটি বন্ধের জন্য পারিপার্শ্বিক সচেতনতা প্রয়োজন। শুধু সীতাকুণ্ড এলাকায় নয়, অন্যান্য স্থানেও অনুরূপ ঘটনা ঘটছে বলে খবরে প্রকাশ। কাজেই স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা ছাড়া কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। জনগণ এবং রাষ্ট্রের সমপত্তির ক্ষতি করে বিকৃত রুচির মানুষেরা এক ধরনের স্যাডিস্ট আনন্দ পায়। এটি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাধি। এ ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য সর্বাগ্রে নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন যে শিক্ষা সর্বতোভাবে ভালো কাজের পাশাপাশি মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার প্রত্যয় জন্মাতে সাহায্য করে। প্রীতি দাশের এই অকাল মৃত্যু সামাজিক মূল্যবোধগুলো প্রতিষ্ঠা করার তাগিদ সৃষ্টি করেছে। এ হত্যা সন্তানদের সদাচারণ সমপর্কে শিক্ষা দেওয়ার তাগিদ সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মূল্যবোধ যদি প্রতিষ্ঠিত হয় তবে চলন্ত ট্রেনে শুধু ঢিল ছোড়াই বন্ধ হবে না মানুষ অনেক বিড়ম্বনা থেকেও মুক্তি পাবে। মানুষের জানমালেরও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। মৌলভীবাজার