ব্যক্তি উদ্যোগের সংগ্রহশালায় ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০১৩, ২২:১১
চলনবিলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক বাহক প্রীতম-প্রেয়ান্তি সংগ্রহশালাটি পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ঐ সংগ্রহশালায় ইতোমধ্যে সংগ্রহ করা হয়েছে অনেক দুর্লভ প্রাচীন নিদর্শন। এসব নির্দশন দেখার জন্য দর্শনার্থীরা প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছে প্রীতম-প্রেয়ান্তি সংগ্রহশালায়। স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো. আয়নাল হক তালুকদারের ছেলে আবুল কালাম আজাদের উদ্যোগে এবং এলাকাবাসীর সহায়তায় ১৯৯৪ সালে চলনবিল অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করার ব্রত নিয়ে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার তালুকদার পাড়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় একটি সংগ্রহশালা। এর নাম দেয়া হয় প্রীতম-প্রেয়ান্তি সংগ্রহ শালা। সেই সাথে চলনবিল তথা উপ-মহাদেশের অনেক দুর্লভ নিদর্শন সংগ্রহ করা হয় এ সংগ্রহশালায়। শুরুর গল্প: এসএসসি পাসের পর চাঁচকৈড় বাজারে কাপড়ের দোকান খুলেন আজাদ। পাশাপাশি চলনবিলের আদি ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য চিন্তা করেন একটি সংগ্রহশালা তৈরির। ১৯৯৪ সালে তিনি নিজ উদ্যোগে তার বাড়িতে গড়ে তুলেন ছোট্ট একটি সংগ্রহশালা। শুরুতে তার উদ্যোমি মনোভাব থাকলেও মাঝখানে কর্ম ব্যস্ততা তাকে পিছুটানে। তবে সে পিছুটান বেশি দিন স্থায়ি হয়নি। ছেলে প্রীতম ও মেয়ে প্রেয়ান্তির উত্সাহ পেয়ে সংগ্রহশালায় আবার ফিরে আসেন তিনি। প্রথমে আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের কাছ থেকে পাওয়া নির্দশন সংগ্রহ করে রাখেন ঐ সংগ্রহশালায়। নানা প্রতিকূলতা পার করে প্রীতম-প্রেয়ান্তি সংগ্রহশালায় বর্তমানে ৯০টি দেশের মুদ্রা সংগ্রহ করেছেন তিনি। সংগৃহীত নিদর্শনাবলী: বিভিন্ন সময়ের স্বর্ণ, রৌপ্য, তাম্র ও ধাতব মুদ্রা এবং বিভিন্ন ধরনের প্রস্তর ও পোড়া মাটির ভাস্কর্য রয়েছে এখানে। এছাড়া প্রাচীনকালের কাঁচা পয়সা, দেশি-বিদেশি কাগজের মুদ্রা, সোনার চামচ, পিতলের বাটি, চাঁদির প্লেট, রূপার গ্লাস, চাঁদির মুকুট, সিধুঁরদানি ছাড়াও ৯৫টি দেশের মুদ্রা রয়েছে। দিঘাপতিয়া রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী জিনিসপত্রের মধ্যে মাটির তৈজসপত্র, পিতলের কলস, মুর্তি, শামুক, হাতির দাঁত, পাটের জুতা রয়েছে এ সংগ্রহশালায়। সংগ্রহশালার পরিধি বাড়ানো: নিজ বাড়িতেই ছোট্ট একটি রুম দিয়ে শুরু। নিদর্শনাবলী বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে সংগ্রহশালার আয়তন। বর্তমানে ৮ ফুট দৈর্ঘ্য ৯ ফুট প্রস্তের তিনটি রুমে চলছে সংগ্রহ শালার কার্যক্রম। সংগ্রহশালার আয়তন বৃদ্ধির প্রস্তুতি চলছে। তবে অর্থ সংকটের কারণে ইচ্ছা থাকলেই এখনি আয়তন বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না। ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা: মূলত চলনবিলের ইতিহাস, ঐতিহ্য সংরক্ষণ করাই সংগ্রহশালাটির প্রধান উদ্দেশ্য। নির্দশন আরো বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। প্রতিদিনই সংগ্রহশালায় প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় জমছে। স্বল্প জায়গা হওয়ায় দর্শনার্থীদের সমস্যা হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ সমস্যার সমাধান করা হবে। সংগ্রহশালায় একদিন: শুক্রবার বিকাল ৫টা। ভেতরে ঢুকতেই প্রচুর লোকের ভিড় চোখে পড়লো। সেখানে গিয়ে দেখাগেল তারা সবাই দর্শনার্থী। সংগ্রহশালায় প্রবেশ করতে কোন টিকিটের প্রয়োজন হয় না। একারণে প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় হয় সেখানে। দর্শনার্থীদের কথা: প্রীতম প্রেয়ান্তি সংগ্রহশালায় প্রাচীন দুর্লভ নির্দশন রয়েছে। তাছাড়া চলনবিল জাদুঘর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তার অস্তিত্ব হারাচ্ছে। ফলে সকল দর্শনার্থী এখানে ভিড় জমাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের বগুড়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক জানান, গুরুদাসপুরে চলনবিল জাদুঘর রয়েছে একারণে বিকল্প কিছু ভাবা যাচ্ছে না।