চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন সমস্যায় চিকিত্সা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ১ বছর ধরে হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন ও ই.সি.জি. মেশিনটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে হাসপাতালে আসা রোগীদের রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারা বেশি টাকায় বাইরের ল্যাবগুলো থেকে এক্স-রে ও ই.সি.জি. করতে বাধ্য হচ্ছে। হাসপাতালে নতুন এক্সরে ও ই.সি.জি. মেশিন সরবরাহে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হলেও আজ অবদি কোন সাড়া মেলেনি।
১৯৯৫ সালে হাসপাতালের ৩১ বেডের ভবন উদ্বোধনের সময় এক্স-রে মেশিন দেয়া হলেও সেই পুরোনো মডেলের এক্সরে মেশিন দিয়ে রোগ নির্ণয় চলে। ১ বছর পূর্বে এক্সরে মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে। বিশেষ করে হাঁড়ভাঙ্গা এবং অন্য রোগীদের রোগনির্ণয় সম্ভব হয় না। ফলে স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে রোগীরা প্রবঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। ইহা ছাড়াও গত এক বছর ধরে ইসিজি মেশিন খারাপ থাকায় হাসপাতালে ইসিজি করা হচ্ছে না। হূদরোগী ও শ্বাসকষ্ট রোগীদের জরুরী ইসিজি করতে না পারায় রোগীদের পাশাপাশি দায়িত্বরত ডাক্তারদের বিপদে পড়তে হয়। এছাড়া ২০০৯ সালে ৩১ বেড থেকে ৫০ বেডে উন্নীত করা হলেও বর্তমানে ৫০ বেডের পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে না। গাইনী ডাক্তার থাকলেও রাত্রিকালীন তারা হাসপাতালে থাকেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি মাত্র এম্বুলেন্স থাকায় শিশুসহ জরুরী রোগীদের বিপদের সম্মুখীন হতে হয়। এতে হাসপাতালে আরেকটি এম্বুলেন্স প্রয়োজন। অন্যদিকে হাসপাতালটি আরাকান সড়কের পাশে থাকায় বিভিন্ন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পর্যাপ্ত লজিস্টিক সাপোর্ট না থাকায় অনেক রোগী দ্রুত চিকিত্সা পায় না। ফলে তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে রেফার করতে হয়। এজন্য কমপ্লেক্সে একটি ট্রমা সেন্টার করা হলে দুর্ঘটনা কবলিত রোগীরা সুচিকিত্সা সেবা পাবে।
সরকারিভাবে এক্স-রে ও ই.সি.জি ফিস ৮০ টাকা করে রোগীদের থেকে নেয়া হয়। কিন্তু বাইরের ল্যাবগুলোতে ২৫০ টাকা করে নেয়া হয়। হাসপাতালে প্রতিদিন জরুরী বিভাগে ১০০-১৫০ রোগী আসে। তার মধ্যে ২০% রোগী এক্সরে কিংবা ই.সি.জি করা হয়। অন্যদিকে বহির্বিভাগে প্রতিদিন ২৫০-৩০০ রোগী দেখা হয়। তার মধ্যে ১০% রোগীকে এক্সরে কিংবা ই.সি.জি করা হয়। রোগীরা এক্স-রে ও ইসিজি মেশিন সরবরাহের জন্য সরকারের নিকট দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ শরফরাজ খান জানান, ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। সরকারিভাবে একটি এক্সরে মেশিন আনা হলে তা পটিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দিবেন বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে পটিয়ার এমপি সামশুল হক চৌধুরী বলেন, বর্তমান ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন দিতে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ পড়বে। তিনি এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন।
