পাথরঘাটা থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে লালদিয়া ও নিদ্রা ছকিনা এলাকায় সুন্দরবনের জলদস্যু শীর্ষ বাহিনী ৩০টি ট্রলারে ডাকাতি করে ৪৫ জন জেলেকে অপহরণ করেছে। তালতলী ও পাথরঘাটা উপজেলার নদী মোহনার মধ্যবর্তী স্থানে সোমবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় মারধরে ২৫ জন জেলে আহত হয়। তাদেরকে পাথরঘাটায় প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। জেলে ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সূত্রে দস্যুতার এসব খবর পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার জলদস্যুদের কবল থেকে পাথরঘাটায় ফিরে আসা জেলে মো. ইউনুছ মাঝি জানান, গত সোমবার রাত দুইটার সময় লালদিয়া, টেকদিয়া ও নিদ্রা ছকিনা এলাকায় জেলেরা সাগরে ইলিশ মাছ ধরার জাল ফেলে অপেক্ষা করছিল। এমন সময় সুন্দরবনের শীর্ষ বাহিনী একটি ট্রলারে এসে অস্ত্র নিয়ে জেলেদের ট্রলার বহরে হামলা চালায়। তারা প্রায় অর্ধশত জেলেসহ ট্রলারে থাকা মাছ, জাল ও যন্ত্রাংশ লুট করে নিয়ে যায়।
বরগুনা জেলার তালতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দুলাল ফরাজী জানান, অপহূত জেলেদের মধ্যে যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন—দুলাল রাঢ়ি, মিরাজসহ ইউনুছ, মিজান, রিয়াজ, সেলিম, কামাল, শুক্কুর, জয়নাল, ফিরোজ, আবুল হোসেন, কামাল। এদের সকলের বাড়ি পাথরঘাটা, বরগুনা সদর ও তালতলী উপজেলার নিদ্রা ছকিনা এলাকার বিভিন্ন গ্রামে। যে কয়টি ট্রলার জলদস্যুরা নিয়ে গেছে তার মধ্যে এফবি ভাই ভাই, এফবি মায়ের দোয়া, এফবি রাশেদা, এফবি শাহিনূর, এফবি জাকিয়া ও এফবি সাবিনার নাম জানা গেছে। জেলেরা জানান, অপহূত প্রত্যেক জেলের জন্য ৫০ থেকে এক লাখ নিয়ে যোগাযোগ করতে বলেছে জলদস্যুরা।
জেলেরা অভিযোগ করেছেন, ডাকাতির সময় কাছাকাছি থাকা কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা স্টেশনের নিদ্রা ছকিনা টহল ফাঁড়ির কাছে বারবার মোবাইল ফোনে সাহায্যের আবেদন জানানো হলেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে তালতলী উপজেলার নিদ্রা ছখিনা এলাকায় কোস্টগার্ডের আউটপোস্টের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. শহিদুল ইসলাম টেলিফোনে জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে তারা নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল ফরাজীর কাছ থেকে ঘটনাটি শোনার পর সেখানে টহল ফোর্স পাঠান হয়েছে।
