বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, এক সময় বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তবে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ এদেশ ইতিমধ্যে ধান উত্পাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। এক দশকের মধ্যে খাদ্যে নিরাপদ হওয়ার পথে এগিয়ে চলেছে। ২০, ৩০ বা ৪২ বছর আগে কেউ কল্পনা করতে পারেনি বাংলাদেশ খাদ্য উত্পাদন ও ব্যবস্থাপনায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। তবে বাংলাদেশ অনেক চেষ্টায় সেটি করেছে। এটা অলৌকিক ঘটনা নয়, বাস্তব এবং ঈর্ষণীয়। গবেষক ও কৃষকদের যৌথ চেষ্টায় বাংলাদেশ একটি ‘উপচে পড়া ঝুড়িতে’ পরিণত হতে বেশি দেরি নেই।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে ‘লবণ সহিষ্ণু ধান উত্পাদন, গবেষণা ও উন্নয়নে অধিকতর অংশীদারিত্বের জন্য পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বিভাগের সামনের চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে ড্যান মজীনা আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের কৃষি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্র সীমা বৃদ্ধি পাচ্ছে। লবণাক্ততা বেড়ে দেশের আরো ভেতরে ঢুকে পড়েছে। মৌসুমের ভিন্নতা কমছে এবং সেগুলো সম্পর্কে পূর্বাভাস দেয়া আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে খরা ও বন্যার হুমকি বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বৈরী পরিবেশ সহিষ্ণু বীজ উদ্ভাবন করতে হবে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গবেষণাগারে বিশ্বমানের গবেষণা হচ্ছে। এতে একদিকে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষি ক্ষেত্রে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে।
আমেরিকা কৃষিক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সহায়তা দিচ্ছে জানিয়ে মজীনা বলেন, আমেরিকা জৈব প্রযুক্তির ক্ষেত্রগুলোকে অনেক সহায়তা করছে। ধানের জাত উন্নয়নে সহায়তা করা হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ কৃষককে নতুন জাতের ধান সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করছি। এতে বিস্ময়কর ফল পাওয়া গেছে এবং বাংলাদেশের কতিপয় অঞ্চলে ধানের উত্পাদন ব্যাপক বেড়েছে। বাংলাদেশে বেগুনের চারা ও আলুর জাত উন্নয়নে বেশকিছু কাজ হচ্ছে। এগুলো সফল হলে ঐ জাতের গাছগুলো পোকামাকড় দমনে নিজেরাই সক্ষম হবে। কোন কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না। কৃষি-প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে আমেরিকার পরিবেশের ওপর ভালো প্রভাব পড়ছে।
প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস সায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অধ্যাপক হাসিনা খান, অধ্যাপক মামুন আহমেদ, ড. এ এইচ এম নূরুন নবী পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ইমদাদুল হক, জাতীয় বিজ্ঞান পরিষদের কর্মকর্তা ড. ফাহমিদা চৌধুরী, ইউএসএআইডি’র কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা মার্ক টেগেনপেল্ট, কৃষি বিশেষজ্ঞ সরওয়ার সায়িদ হুসাইন।
