কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে ঐশী দিন কাটাচ্ছে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে। মা-বাবাকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ঐশী অন্য নিবাসীদের মতোই স্বাভাবিক সময় কাটাচ্ছে ওই উন্নয়ন কেন্দ্রে। তাকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। তার আচার-আচরণ, খাওয়া-দাওয়া, বইপড়া, কেন্দ্রের অন্য নিবাসীদের সঙ্গে তার মানিয়ে নেয়া ও রাতের ঘুমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা হচ্ছে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম লুত্ফুন্নেছা জানান, কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে নিবাসীদের নাস্তা, এসেমব্লি, ট্রেড কোর্স, দুপুরের খাবার, খেলাধুলা বিশ্রাম টিফিন, টিভি দেখা, রাতের খাবার সবই নিয়ম মাফিক করতে হয়। খেতে হয় নির্ধারিত খাবার। ঐশীকেও এসব নিয়ম পালন করে চলতে হচ্ছে। সকালে অন্য নিবাসীর মতই তাকে নাস্তায় রুটি ও সবজি, দুপুরে ভাত, সবজি, মাছ, ডাল এবং রাতে ভাত, মাছ, ডাল, ভর্তা খেতে দেয়া হচ্ছে। পছন্দ অনুযায়ী সে এমব্রয়ডারি কাজ শিখছে। তাকে নিয়ম অনুযায়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে পরিধেয় জামাকাপড় ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করা হয়েছে। সে অন্য নিবাসীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রে অবস্থান করছে। চারতলা ভবনের একটি কক্ষে তার সঙ্গে আরো ৪ জন নিবাসী রয়েছে। তাদের বাসার গৃহকর্মী সুমি রয়েছে একই বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায়।
ওই ভবনের নিচতলায় ডাইনিং-এ যথাসময়ে এসে সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, বিকালের টিফিন ও রাতের খাবার খাচ্ছে। মঙ্গলবার তাকে হুমায়ূন আহমেদের একটি বই পড়তে দেখা গেছে। ওই কেন্দ্রের লাইব্রেরি থেকে সে এ বই সংগ্রহ করে বলে উন্নয়ন কেন্দ্র সূত্র জানায়।
কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, নিবাসীদের সাথে প্রতি মাসের ৭ ও ২২ তারিখে আত্মীয়-স্বজন দেখা করতে পারেন। ঐশীর সাথে দেখা করার জন্যে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কেউ আবেদন বা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেনি। মামলায় ঐশীর বয়স ১৭ উল্লেখ করায় আদালত ঐশীকে জেল হাজতে না পাঠিয়ে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। তাই জামিন না হলে বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ঐশী এখানে থাকতে পারবে।
উল্লেখ্য, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর চামেলী বাগের বাসা থেকে পুলিশের এসবির ওসি মাহফুজর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৭ আগস্ট ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে। ৫ দিনের রিমান্ড শেষে বাবা-মাকে খুনের কথা স্বীকার করে শনিবার আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর বিচারক ঐশীকে ওই কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। শনিবার রাত ৯টায় পুলিশ তাকে ও বাসার গৃহকর্মী সুমিকে কোনাবাড়ি কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
