ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যবান পরিত্যক্ত সম্পত্তি গোপনে বিক্রি করে দিয়েছেন কয়েকজন কর্মচারী। এ সম্পত্তি বিক্রি করে দেয়ার সাথে কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মীরও যোগসাজশ রয়েছে। রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন তারা। সমপ্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস ঘটনাটি উদঘাটন করলেও দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা এমনকি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস সূত্র এবং কয়েকজন নিরাপত্তা কর্মী জানান, বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কার ও ভাঙচুরের কারণে অনেক পরিত্যক্ত আসবাবপত্র প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন গ্যারেজে রাখা হয়। পুরনো জিনিসপত্রও সেখানে রাখা হয়। এরপর এস্টেট ম্যানেজারের অফিস বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দরপত্র আহবান করে তা বিক্রি করে দেন অথবা অন্যকোনো কাজে লাগানো হয়। কিন্তু গত ২৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী এস্টেট ম্যানেজার এবং গ্রাউন্ডসম্যান বেশ কিছু পরিত্যক্ত জিনিসপত্র গোপনে বিক্রি করে দেন। এ মালপত্র তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মচারী মো. রাশেদ ভুঁইয়া জনির মালিকানাধীন আবু হুরাইরা এন্টারপ্রাইজে বিক্রি করেন। তাদের কাছ থেকে ৪৫৬ কেজির ঐ পরিত্যক্ত সম্পত্তি ১১ হাজার ৪০০ টাকায় কিনে নিয়েছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে স্বীকার করেছেন ঐ কর্মচারী।
প্রশাসনিক ভবন সূত্র জানায়, ঐ দিন প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের হেড দারোয়ান ও চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়নের সহ সভাপতি। এ চুরির ঘটনার সাথে তারাও জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে প্রক্টর অফিস। এছাড়াও কয়েকজন কর্মচারী ঘটনার সাথে জড়িত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী জানান, তারা ভ্যানে করে পরিত্যক্ত সম্পত্তিগুলো নিয়ে যাওয়ার পথে তা দেখে ফেলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসির বাসভবনের এক কর্মচারী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মোবাইল টিমের তিনজন সদস্য, চেকপোস্টের হেড দারোয়ান এবং এশিয়াটিক সোসাইটির সামনের চেকপোস্টের গার্ড এ চুরির টাকার ভাগ পান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
একাধিক নিরাপত্তা কর্মী জানান, এর আগেও একই চক্র বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিনিসপত্র গোপনে বিক্রি করে দেয় বলে অভিযোগ ছিল। কিন্তু প্রমাণ না পাওয়া যাওয়ায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। সমপ্রতি এরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত জুন মাসেই বেশ কিছু পরিত্যক্ত সম্পত্তি সাত হাজার টাকায় বিক্রি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে তিন হাজার টাকা জমা দিয়েছিল তারা।
প্রায় দুই মাসেও দোষীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, এ প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর বলেন, ঘটনাটি আমরা অনেক পরে জানতে পেরেছি। যখন জানি, তখন ভিসি স্যার দেশের বাইরে ছিলেন। এরপর ঈদের ছুটিসহ নানা কারণে আর এদিকে নজর দেয়া যায়নি। তবে শিগগিরই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
