চাঁদপুরে মেঘনায় জেলেরা ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ আহরণে যেসব জাল ব্যবহার করছে তার মধ্যে অধিকাংশ জালই হচ্ছে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল। সরেজমিন ঘুরে মেঘনা উপকূলস্থ চাঁদপুর সদর উপজেলার তরপুরচন্ডী আনন্দ বাজার, শহরের মাদ্রাসা রোড, পুরান বাজার রনাগোয়াল, লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের দোকানঘর, বহরিয়া, লক্ষ্মীপুর, হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে অধিকাংশ জেলে নৌকায় কারেন্ট জালের স্তূপ দেখা গেছে।
জানা গেছে, ইলিশ প্রজনন মৌসুম থেকে শুরু করে কখনোই থেমে নেই কারেন্ট জালের ব্যবহার। এ কারেন্ট জাল এতটাই ধ্বংসকারী যা বিগত বছর ইলিশ উত্পাদনের পরিমাণ পর্যালোচনা করলে সহজে বোঝা যায়। ইলিশের রাজধানী নামে খ্যাত বড় স্টেশন মাছঘাটে এখন আর সহজে রূপালী ইলিশের দেখা মেলে না। সরকারের পূর্ব নির্দেশনা মোতাবেক মত্স্য বিভাগ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগ জেলেদের কারেন্ট জাল ব্যবহার না করতে হস্তক্ষেপ ও অভিযান করার কথা থাকলেও তা বাস্তবে হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন মত্স্য ব্যবসায়ী ও চাঁদপুরের মত্স্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
হরিণা ফেরিঘাট এলাকার জেলে মনছুর ছৈয়াল, নুরু ছৈয়াল, হারুন শেখ, নেছু দর্জি জানান, ইলিশ মৌসুমে তারা অধিকাংশ সময় সুতলি জালে ইলিশ আহরণ করেন। তবে বেশি মাছ যখন ধরা পড়ে, তখন তারা কারেন্ট জাল ব্যবহার করেন। এছাড়া গত কয়েকদিন চাঁদপুর মেঘনায় যেসব ছোট সাইজের ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে এর মধ্যে অধিকাংশই ধরা হয়েছে কারেন্ট জাল দিয়ে।
মনছুর ছৈয়াল আরো জানান, তারা যখন সুতলি জালে মাছ ধরতে নদীতে থাকেন তখন কোস্টগার্ড আসলে তাদের খুব ‘ইজ্জত’ করে। কিন্তু সুতলী জালের নিচে কারেন্ট জাল থাকে, তা কেউই জানে না। কারেন্ট জালের পাশাপাশি মাছের পোনা ধ্বংসকারী গোল্টিজাল ব্যবহারও করে থাকে ওই এলাকার জেলেরা। গোল্টিজালে আটকায় না এমন মাছ খুব কমই আছে-একবাক্যে বললেন উপস্থিত জেলেরা।
জাতীয় সম্পদ ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নিয়ে গবেষণার কমতি নেই মত্স্য বিভাগের। কোন্ ধরনের জাল দিয়ে জেলেরা কি মাছ আহরণ করছে, তাও জানেন মত্স্য বিভাগের কর্মকর্তাগণ। এতসব জানা সত্ত্বেও কারেন্ট জাল ব্যবহার বন্ধে তাদের কার্যকর ভূমিকা না থাকায় চাঁদপুরের ঐতিহ্যবাহী রূপালী ইলিশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। জেলা মত্স্য কর্মকর্তা রতন দত্ত জানান, আমরা অভিযানে নামলে কোন কারেন্ট জাল দেখি না। তবে জেলেদের কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা অবস্থায় পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।
