গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ২৬ জন কৃষক প্রায় ৩ একর জমিতে চলতি বছর বারী-হাইব্রিড-৪ জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করেছেন। ফলনও হয়েছে ভাল। বাজার মূল্যও বেশ চড়া। এই টমেটো চাষ অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় অন্য কৃষকরাও এটি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উপজেলার তরফবাজিত, হামিন্দপুর, জামুডাঙ্গা, দামোদরপুর, বড় দাউদপুর, মোলংবাজার, মহেশপুর, ধাপেরহাট, নলডাঙ্গা ও প্রতাপ গ্রামে অসময়ের এ টমেটো চাষে কৃষকদের সফলতা উল্লেখ করার মত। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন টমেটো কম জমিতে চাষ করে বেশি লাভ হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ফলে কৃষকরা বারী-হাইব্রিড-৪ জাতের টমেটো চাষ পদ্ধতি শিখতে ভিড় করছেন সফল টমেটো চাষিদের বাড়িতে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগসূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারী-হাইব্রিড-৪ জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করার পর মে থেকে জুনের মধ্যে জমিতে বীজ ছিটাতে হবে। উত্পাদিত ওই চারা জমিতে রোপণ করতে হবে ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে। তবে তার আগে পরিমাণমত চুন ছিটিয়ে ১০ দিন পর ওই জমি চাষ করতে হবে। চাষের পর প্রথমে জমিতে গোবর সার এবং পরে পরিমাণমত পটাশ, টিএসপি, জীপসাম, জিংক ও বোরণ ছিটাতে হবে। গাছ বড় হলে পর পর দু’বার পার্শ্বপ্রয়োগ (সাইড ড্রেসিং) পদ্ধতিতে ইউরিয়া সার দিতে হবে। গাছের উপরে বাঁশের ছাউনি তৈরি করে পলিথিন দিয়ে তা ঢেকে দিতে হবে। রোপণের পর দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে এই টমেটো উত্তোলন করে বাজারজাত করা যাবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান জানান, চলতি বছর কৃষি বিভাগের দ্বিতীয় শস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ২৬ জন কৃষকের জমিতে গ্রীষ্মকালীন এ টমেটো চাষের প্রদর্শনী প্ল¬ট করা হয়। তাদেরকে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সহায়তা প্রদান ছাড়াও নির্ধারিত মূল্যে বীজ সরবরাহ করা হয়। তিনি আরো জানান, বর্ষাকালে উঁচু এলাকায় এই টমেটো চাষ করতে হবে। জমিতে যাতে বৃষ্টির পানি আটকে না থাকে সেজন্য ড্রেনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শীতকালেও ওই জমিতে টমেটো চাষ করা যাবে। সেখানে আর নতুন করে চারা লাগাতে হবে না। আগে লাগানো গাছের উপরের পলিথিন খুলে ফেললেই হবে। ফলে শীতকালীন টমেটো চাষে খরচও অনেক কম পড়বে।
হামিন্দপুর গ্রামের কৃষক দিলীপ কুমার সরকার বলেন, আমি জুন মাসের শেষে মাত্র ৯ শতক জমিতে ৯শ টমেটোর চারা রোপণ করে দু’মাসেরও কম সময়ে ফসল তুলতে শুরু করেছি। মোট খরচ হয়েছে ২২ হাজার টাকা। বাজারে ৬৫ টাকা কেজিতে এগুলো বিক্রি করে লক্ষাধিক টাকা মুনাফার আশা করছি।
ফরিদপুর ইউনিয়নের মোলংবাজারের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, এত কম সময়ে এত লাভ আর কোন ফসলে হয় না। প্রতিকেজি টমেটো ৬৫ টাকা দরে আড়তদাররা বাড়ি থেকে নিয়ে যাচ্ছে। বাজারে এখন সেই টমেটো ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গাইবান্ধা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মীর আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এ টমেটো পাকাতে কোন কেমিক্যাল ব্যবহার করতে হয় না। গাছ থেকে টমেটো তুলে ঘরে ২/৩ দিন রেখে দিলেই এগুলো পেকে যায় এবং সুন্দর রং হয়।
