ভূতুড়ে ট্রেন!

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ২২:২২
কয়েকদিন আগে আমার এক বন্ধুর কাজে নোয়াখালীর মাইজদি যেতে হয়। ঢাকা থেকে উপকূল ইন্টারসিটি ট্রেনে করে মাইজদি কোর্ট স্টেশনে নেমে গভীর রাতে একটা হোটেলে গিয়ে উঠি। পরের দুদিন টানা ছত্রিশ ঘণ্টার হরতালে দূরপাল্লার কোনো গাড়ি চলবে না। যাতায়াতের জন্য একমাত্র ট্রেনই ভরসা। পরদিন বন্ধুর কাজ শেষে আমাদের গন্তব্য লাকসাম-ফেনি হয়ে চট্টগ্রাম। সন্ধ্যায় ট্রেনের খবরে মাইজদি কোর্ট রেলস্টেশনে গিয়ে জানতে পারি রাত সোয়া নয়টায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস নামের একটা ট্রেন সোনাপুর থেকে মাইজদি কোর্ট স্টেশনে আসে। এটি লাকসাম হয়ে ঢাকায় যাবে। তাই আমরা লাকসামের টিকিট কাটি। রাত সাড়ে নয়টায় ট্রেনটি মাইজদি কোর্ট স্টেশনে আসে। লক্কর-ঝক্কর মার্কা ট্রেন। তিন চারটা প্যাসেঞ্জার বগি আর দুটি মালের বগি নিয়ে ছাড়ে ট্রেন। তাড়াহুড়ো করে একটা প্যাসেঞ্জার বগিতে উঠে আমরা একেবারে হতভম্ব হয়ে যাই। সম্পূর্ণ বগিটি অন্ধকার। গাদাগাদি করে প্যাসেঞ্জারে ঠাঁসা। জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারি গোটা ট্রেনই অন্ধকার এবং কোনোদিনই এই ট্রেনে আলোর ব্যবস্থা করা হয় না। ভীত-বিহ্বল হয়ে অন্ধকারে ব্যাগ বুকে চেপে ধরে সময় পার করতে থাকি। কোনো ভদ্রলোকের পক্ষে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভূতুড়ে অন্ধকার এই ট্রেনে জার্নি করা সম্ভব কিনা জানি না। আরো জানা গেলো মালামাল চুরি ও পকেট কাটাসহ সব ধরনের অপকর্মই হয় এই ট্রেনে। আশ্চর্যের বিষয়, লাকসাম পর্যন্ত দুঘণ্টার জার্নিতে আমাদের বগিতে কোনো টিকেট চেকার কিংবা রেলওয়ে পুলিশ উঠলেন না। অর্থাত্ ট্রেনে আলোর ব্যবস্থা না করে টিকেট বিক্রি করে ট্রেন চালানো হচ্ছে। রসিকতা? বিষয়টি কি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন? মো. হাবিবুল ইসলাম, সিডিএ আবাসিক এলাকা, আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম