চুয়াডাঙ্গার দু’টি আসনে প্রচারণা গণসংযোগ

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০১
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলার ২টি আসনে আগাম নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু হয়েছে। রমজান মাসের পুরো সময়টা জুড়ে ইফতার পার্টির রাজনীতি সরগরম হয়ে উঠে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় ইফতার পার্টিতে অংশ নিয়ে গণসংযোগ কার্যক্রমকে জমজমাট করে তুলেন। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ২ জন, বিএনপির ৩ জন ও জাতীয় পার্টির (এ) ১ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ পেয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন হলেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। অপরজন আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় নেতা সামসুল আবেদীন খোকন। তিনি আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কয়েকবার নির্বাচনী এলাকার আলমডাঙ্গা উপজেলা শহর ও হারদী ইউনিয়ন সদরে দু’একটি বৈঠক করেছেন। বিএনপি দলীয় ৩ জন ইচ্ছুক প্রার্থীর নাম জানা গেছে। এদের একজন হলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক সংসদ সদস্য শামসুজ্জামান দুদু। তিনি মাঝে মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় এসে রাজনৈতিক কর্মসূচি ও গণসংযোগ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। তিনি এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অত্যন্ত আশাবাদী। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অহিদুল ইসলাম বিশ্বাস এই আসনে সম্ভাব্য দলীয় প্রার্থী হিসেবে অনেকদিন থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আসনটিতে বিএনপির নতুন মুখ হিসেবে আবির্ভূত অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মকর্তা লেঃ কর্নেল সৈয়দ কামরুজ্জামান। গত পয়লা জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গা শহরের নিজ বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘোষণা করেন ২০০৯ সালে ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহে আহত হয়ে প্রাণে বেঁচে যাওয়া এই সেনাকর্মকর্তা লেঃ কর্ণেল (অবঃ) কামরুজ্জামান। সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের সন্তান হিসেবে তিনি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও গণসংযোগ করবেন। এই আসনে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন লাভের লক্ষ্যে তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন দলীয় মনোয়ন নিয়ে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ লক্ষ্যে তিনি নির্বাচনী এলাকায় দলীয় কর্মকাণ্ড ও গণসংযোগ পরিচালনা করছেন। চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের ২ জন ও বিএনপির ২ জন প্রার্থীর নাম জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একজন হলেনঃ সংগঠনের জেলা কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক শিল্পপতি বর্তমান সংসদ সদস্য হাজী আলী আজগার টগর। আলী আজগার টগর এমপি দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকার মানুষের মধ্যে তার ইমেজ তৈরিতে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ইচ্ছুক নতুন মুখ মীর্জা শাহরিয়ার লন্টু। সাবেক সংসদ সদস্য মীর্জা সুলতান রাজার কনিষ্ঠ সহোদর মীর্জা শাহরিয়ার লন্টু আগে থেকেই এলাকায় প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ শুরু করেছেন। বিএনপি দলীয় ২ জন প্রার্থীর গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এরা উভয়েই হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন। এদের ১ জন হলেন বিএনপি জেলা কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক শিল্পপতি টিপু তরফদার। অপরজন জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক শিল্পপতি মাহমুদ হাসান খাঁন বাবু। ইনিও এলাকায় হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে খ্যাতি লাভ করেছেন। শিল্পপতি টিপু তরফদার অনেক আগে থেকেই এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি দীর্ঘদিন নির্বাচনী গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এই আসনের অপর হেভিওয়েট প্রার্থী যুবদল কেন্দ্রীয় নেতা শিল্পপতি মাহমুদ হাসান খান বাবুও গণসংযোগ ও দলীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। উভয় প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন লাভে চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি হাজী মুজাম্মেল হক বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার মধ্যেও এই নির্বাচনী এলাকায় সাংগঠনিক তত্পরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভ্রম সংশোধনী গতকাল বুধবার ‘দৈনিক ইত্তেফাকে’র প্রথম পৃষ্ঠায় পটুয়াখালীর চার আসনে প্রত্যাশীরা আগেই তত্পর শীর্ষক খবরের চতুর্থ প্যারাতে মুদ্রন ত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রত্যাশী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের কয়েকজনের নাম বাদ পড়েছে। এখানে ঐ নামগুলি নিম্নরূপঃ এখানে বিএনপি সমর্থিত ১৮ দলীয় জোটের মনোনয়ন চাইবেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ রব, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনু। এছাড়া, তরিকত ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব পীরজাদা মুহাম্মদ মুতাওয়াক্কিল বিল্লাহ ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আবদুর রহমান (শাহ আলম) সম্ভাব্য প্রার্থী।