চট্টগ্রামে চালের বাজার অস্থির

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০২
চট্টগ্রামে চালের বাজার অস্থির। পাইকারি ও খুচরা দামের মধ্যে ব্যবধান অনেক। মিল মালিক থেকে কয়েক দফা হাত বদলের পর খুচরা বিক্রিতে প্রতি কেজি চালের দাম ছয় থেকে সাত টাকা বেড়ে যাচ্ছে। বাজারে সরবরাহের ঘাটতি নেই, তবুও দাম চড়া। পাইকারি বিক্রেতারা জানান, উত্তরাঞ্চলের কয়েকজন মিল মালিকের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে চালের বাজার। তারা সিন্ডিকেট করে দেশের চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে মিল মালিকরা দাবি করেছেন, ধানের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চালের দাম বেড়েছে। আগামী অন্তত দুই মাস চালের দাম বাড়তি থাকবে বলে তারা মনে করছেন। সরকার চালের বাজারে স্থিতিশীলতা আনার জন্য খোলা বাজারে চাল বিক্রি শুরু করেছে। কিন্তু এর কোন প্রভাব অনুভূত হচ্ছে না। চালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মিল মালিক আবদুল মতিন মিসেল বলেন, ধানের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় চালের দামও বেড়েছে। পাইকারি বাজারে চাল বস্তাপ্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ধান মণপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা বেড়েছে। অপর মিল মালিক ইউনুছ আলী বলেন, ধানের মূল্য মণে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেড়েছে। সেই অনুপাতে চালের দাম বাড়েনি। আগামী দুই মাস চালের মূল্য কমার কোন সম্ভাবনা নেই। মিল মালিকরা প্রতি বস্তা চালের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা বাড়ালেও পাইকারি বাজারে প্রতি বস্তা চালের দাম বেড়েছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা। আর খুচরা বাজারে আরো ১০০ থেকে ১৫০ টাকা যুক্ত হয়ে তা বিক্রি হচ্ছে। চাল ব্যবসায়ীরা জানান, কুষ্টিয়া, দিনাজপুর ও নওগাঁ এলাকা পাইকারি চালের বৃহত্তম বাজার। মিল মালিক ও আমদানিকারকরা ঐসব এলাকার। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে পাইকারি বিক্রেতারা নওগাঁ, কুষ্টিয়া ও দিনাজপুর থেকে চাল কিনে থাকেন। মিল মালিক ও আমদানিকারকরা চালের দাম বাড়িয়ে দেয়ায় খুচরা বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রামে পাহাড়তলী ও চাক্তাইয়ে চালের বৃহত্ পাইকারি বাজার। এই দুই বাজারে প্রতিদিন শত শত টন চাল বেচা-কেনা হয়। পাহাড়তলী বাজারে পাইকারি চাল বিক্রেতা নিজাম উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চালের মূল্য ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরাঞ্চলের মিল মালিকরা চাল মজুদ করে রেখেছে। আবার কয়েক মাস আগে সরকারিভাবেও টিআরের জন্য বিপুল পরিমাণ চাল কিনে গুদামে মজুদ করার কারণে বাজারে চালের দাম বেড়েছে। কুষ্টিয়া, নওগাঁ ও দিনাজপুরের চার থেকে পাঁচজন মিল মালিকের কাছে দেশের চালের বাজার জিম্মি হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চাক্তাই চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ওমর আজম জানান, চালের পাইকারি দাম ও পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়েছে। কয়েকমাস ধরে চাল আমদানিও হচ্ছে না। তাই বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার পাহাড়তলী পাইকারি বাজারে পাইজাম আতপ প্রতিবস্তা (৫০ কেজি) ২০১৫ থেকে ২২৮০ টাকা, পারি সিদ্ধ ১৮১৪ থেকে ১৮৫০ টাকা, জিরা শাইল সিদ্ধ ২০৫০ থেকে ২২৮০ টাকা, মিনিকেট সিদ্ধ ১৮৫০ টাকা, মিনিকেট আতপ ১৯৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু খুচরা বাজারে দাম আরো চড়া। মিনিকেট আতপ প্রতি কেজি ৪৩ থেকে ৪৫ টাকা, জিরা শাইল ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, পাইজাম ৪৮ থেকে ৫০ টাকা ও পারি ৪২ থেকে ৪৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চালের মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকারিভাবে গত ১৮ আগস্ট থেকে ওএমএস চালু করা হয়েছে। চট্টগ্রামে শুধুমাত্র মহানগরীতে এর কার্যক্রম চলছে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘মহানগরীতে ৪৪ জন ডিলার রয়েছে। প্রতিদিন ৬০ টন চাল ও ৩০ টন আটা সরবরাহ দেয়া হচ্ছে। চাল কেজি ২৪ টাকা ও আটার কেজি ২২ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।’ তবে কয়েকজন ডিলার জানান, ওএমএস’র যে চাল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে বাজার মূল্যের সঙ্গে তার তেমন ব্যবধান নেই। মোটা সিদ্ধ এসব চাল বাজারে কেজি প্রতি ২৫ থেকে ২৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে ক্রেতারা তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।