গাজীপুরে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে ঐশীর খোঁজ নেয়নি কেউ

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০২
গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে অবস্থিত কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে নিরাপত্তা হেফাজতে থাকা ঐশী স্বাভাবিকভাবে সময় কাটাচ্ছে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিকভাবে তার দিকে নজর রাখছেন। তার খাওয়া-দাওয়া, গতি প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রের চারতলা ভবনের তিনতলার একটি কক্ষে তার সঙ্গে অন্য যে চার জন নিবাসী রয়েছে তাদের সাথে সে কিভাবে মিশছে এবং কি কথাবার্তা হচ্ছে তাও মনিটর করছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল বুধবার বিকাল পর্যন্ত ঐশী ও কাজের মেয়ে সুমির খোঁজ-খবর নিতে গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে কেউ আসেনি। ঐশী কেন্দ্রে কিভাবে দিন কাটাচ্ছে সে খবর সংগ্রহের জন্য সংবাদকর্মীরা গেলে কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক, সহকারী তত্ত্বাবধায়কসহ সংশ্লিষ্ট কেউ এ ব্যাপারে মুখ খুলছেন না। এমনকি তাদের ব্যবহূত মোবাইল ফোনটিও দীর্ঘ সময় বন্ধ পাওয়া যায়। তবে এ ব্যাপারে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম লুত্ফুন নেছার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঐশী ওই কেন্দ্রে স্বাভাবিকভাবেই অবস্থান করছে। সে কেন্দ্রের নিয়ম-কানুন মেনে চলছে। নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা, বিশ্রাম, এসেমব্লিতে আসছে, বই পড়ছে তার আচার-আচরণ স্বাভাবিক রয়েছে। ঐশী পছন্দ অনুযায়ী এমব্রয়ডারী কাজ শেখাকে বেছে নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে প্রদত্ত জামাকাপড় পড়ছে। তাদের বাসার গৃহকর্মী সুমি রয়েছে একই বিল্ডিংয়ের চারতলায়। সুমিকে কেন্দ্রের শিশুশ্রেণীতে শিক্ষাদান করা হচ্ছে। ওই কেন্দ্রে বর্তমানে ১১৩ জন নিবাসী রয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন খুনের আসামি। গত ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় রাজধানীর চামেলী বাগের বাসা থেকে এসবির ইন্সপেক্টর মাহফুজর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে মেয়ে ঐশী ও গৃহকর্মী সুমি নিখোঁজ ছিল। ১৭ আগস্ট ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে। ৫ দিনের রিমান্ড শেষে বাবা-মাকে খুনের কথা স্বীকার করে শনিবার আদালতে জবানবন্দি দেয়ার পর বিচারক ঐশীকে ওই কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেয়। শনিবার রাতে পুলিশ তাকে ও বাসার গৃহকর্মী সুমিকে কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে নিয়ে আসে।