দেশে নয়, জিহাদ করব বিদেশে

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৩
‘আমি নিজেকে ভালো পথের পথিক বলেই মনে করি। শরিয়া ভিক্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল-কায়দার অনুরূপ নীতি ও আদর্শে বিশ্বাস করি। অংশ নিতে চাই সশস্ত্র জিহাদে। তবে দেশে নয়, বিদেশে। কারণ দেশে এখনও জিহাদ করার মত অবস্থান তৈরি হয়নি। তবে দেশে যেসব সংগঠন সহিংস তত্পরতা চালাচ্ছে আমি তাদের সঙ্গে নেই। জায়ামাত-শিবিরের সঙ্গে কখনই যুক্ত হইনি। তাদের চেতনা ও আমার চেতনার মধ্যে অনেক অনেক ব্যবধান। আমি দাওয়াত নিয়ে কাজ করি। দাওয়াতি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষকে আকৃষ্ট করি। আর এ নিয়ে কাজ করতে গিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হবো এমনটা আগে আশা করিনি। শেষটায় গ্রেফতার হলাম। এনিয়ে অনুশোচনা করি না। তবে অনেক কিছু ভাববার সময় এসেছে। এ কথাগুলো আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য জুনুন শিকদারের। মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) দফতরেই এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডিবি পুলিশ গত শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে জঙ্গি অভিযোগে জুনুন শিকদারসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করে। তাদেরকে পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গতকাল বুধবার ছিল রিমান্ডের তৃতীয় দিন। জুনুন শিকদার। বয়স সাতাশ। অত্যন্ত আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী। কথাবার্তা অত্যন্ত মার্জিত। প্রচুর পড়াশুনা করেন। তার নিজের গড়া লাইব্রেরিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার। গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা। ঢাকায় বাসা ঝিগাতলায়। দুই ভাই বোনের মধ্যে তিনি বড়। বাবা ব্যবসা করেন। মা গৃহিণী (ধর্মান্তরিত)। ছোট বোন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে জুনুন শিকদার বলেন, তার কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার পরিবারের কোন সম্পৃক্ততা নেই। জীবনের শুরুতে ইচ্ছা ছিল প্রকৌশলী হবেন। এজন্য ২০০০ সালের দিকে ভর্তি হয়েছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে। এখানে পড়াকালীন সময় পরিচয় হয় রেজোয়ান শরীফের সঙ্গে। তার মাধ্যমে পরিচয় হয় জামায়াতুল মুসলিমিন সংগঠনের বাংলাদেশের আমির ইজাজ হোসেনের সঙ্গে। তিনি পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। এ সংগঠনের আন্তর্জাতিক আমির জর্ডান বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক শেখ আবু ইসরা আলী আররিফাই আল হাশেমী আল কোরাইশি ওরফে আবু মুসা। তিনি ২০০২ সালে বাংলাদেশে এসেছিলেন। বারিধারার নর্থ সাউথ ইউনিভার্ির্সটির কাছাকাছি এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বেশ কয়েক বছর ছিলেন। বিয়েও কয়েছিলেন বাংলাদেশী এক মেয়েকে। পরবর্তীতে তিনি বৃটেনে ফেরার পর লন্ডন পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। ফলে বাংলাদেশে জামায়াতুল মুসলিমিনের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে জুনুন শিকদার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা বাদ দিয়ে দাওয়াত কার্যক্রম প্রচারের উদ্দেশে দারুল ইহছান বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগে ভর্তি হন। জুনুন জানান, বিভিন্ন সংগঠন (জঙ্গি) তাকে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তিনি তার অবস্থানেই সব সময় অনড় থেকেছেন। তবে তিনি বলেন, মিয়ানমারে মুসলমানদের উপর ভীষণ অত্যাচার করা হচ্ছে। এজন্য তিনি বেশ কয়েকজনকে নিয়ে মিয়ানমার যাওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু কক্সবাজার পর্যন্ত গিয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। যাওয়ার ইচ্ছা ছিল পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সিরিয়ায়। সেখানে জিহাদ করার। জুনুন শিকদার বলেন, জেল থেকে মুক্তি পেলে আগামীতে সে আশা পূরণ করার ইচ্ছা আছে। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনকারী রেদওয়ানুল আজাদ রানার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সর্ম্পক ছিল। যেদিন রাজীব হায়দারকে হত্যা করা হয় সেদিনও জুনুনের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল। সে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসিমুদ্দিন রাহমানীর আর্দশের অন্যতম অনুসারী। আনসাররুল্লাহ বাংলা টিম আল কায়েদার আদলে গড়া জঙ্গি সংগঠন।