রাসায়নিক হামলার জন্য সিরিয়া সরকারই দায়ী :ওবামা

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৩, ২০:৫৩
দামেস্কে রাসায়নিক হামলার জন্য সিরিয়া সরকারই দায়ী এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবমা। এদিকে, পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক অভিযানের আশংকায় উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে সিরিয়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, সিরিয়া সরকার দামেস্কের কাছে রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে। ওবামা বলেন, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আগ্রহকে প্রভাবিত করেছে। তবে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানান তিনি। পাবলিক ব্রডকাস্টিং সার্ভিসকে (পিবিএস) দেয়া ওবামার এসব মন্তব্যের কথা বৃহস্পতিবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সিরিয়ায় সামরিক হামলার ব্যাপারে যুক্তরাজ্যের কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে এমন মন্তব্য করলেন ওবামা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিতে সাধারণ নাগরিকদের ‘সুরক্ষায়’ সব ধরনের ‘ব্যবস্থা’ নিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব তোলার কথা যুক্তরাজ্যের। সিরিয়ার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা পশ্চিমাদের ‘অজুহাত’ বলে দাবি করেছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকার। সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী ওয়েল আল হালকি সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামার জন্য রাসায়নিক হামলার একটি ‘মিথ্যা দৃশ্য’ দাঁড় করিয়েছে। সিরিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র রাষ্ট্র রাশিয়া জাতিসংঘের তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করছে। অন্যদিকে, যে স্থানে গ্যাস বোমা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, বুধবারও সেখানে তদন্ত চালিয়েছে জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দল। কাজ শেষ করতে তাদের আরো চার দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন জাতি সংঘ মহাসচিব বান কি মুন। তথ্য-উপাত্ত হাতে পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতে লাগবে আরো কিছু দিন। এদিকে, পশ্চিমা দেশ-গুলোর অভিযানের জোরদার প্রস্তুতিতে উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে সিরিয়ার সাধারণ মানুষদের মধ্যে। গৃহযুদ্ধ চললেও গত কয়েকদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রণপ্রস্তুতিতে দামেস্কবাসীর মধ্যে এখন নতুন করে উদ্বেগ আর উত্কণ্ঠা দেখছেন বিদেশি সাংবাদিকরা। সম্ভাব্য হামলার আগে দামেস্কের বাসিন্দারা আত্মরক্ষামূলক প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। হামলা শুরু হলে খাবারের সঙ্কট দেখা দিতে পারে, এই আশঙ্কায় রুটি, শুকনো খাবার ও ফলমূল কিনে রাখছেন অনেকে। অনেককে পানিও কিনে রাখতে দেখা গেছে। দামেস্কের পাশাপাশি অন্য শহরেও শঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। হুমে, জুমরিয়া, কাদসিয়াতে লোকজন নিজেদের বাসা-বাড়ি ছেড়ে তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছেন।