বিআরটিএ’র অনুমতি ছাড়া ট্রাফিক পুলিশ ও মালিক-শ্রমিক কল্যাণ সমিতির টোকেন নিয়ে এখানকার সড়কগুলোতে অবৈধভাবে চলাচল করছে ৫ শতাধিক আলফা-মাহেন্দ্র যান। বিনিময়ে প্রতি মাসে এই আলফা-মাহেন্দ্র চালকদের ৫ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে সমিতিকে। অভিযোগ রয়েছে এই চাঁদার তিন ভাগের দু’ভাগ যায় নগরীর ৩টি থানাসহ ট্রাফিক পুলিশের দপ্তরে। বৈধর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অবৈধ আলফা-মাহেন্দ্র চলাচল করায় ক্ষুব্ধ বৈধ আলফা-মাহেন্দ্র’র মালিক-শ্রমিকরা।
২০০৬ সালে ভারত থেকে আমদানি করা টেম্পোর আদলে তৈরি ছোট্ট এই যানের দেখা মেলে এই নগরীতে। স্বল্প সময়ের মধ্যে বরিশাল নগরীসহ জেলার সর্বত্র এ যানটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। আলফা-মাহেন্দ্র যথেষ্ট দ্রুতগামী হওয়ার কারণে যাত্রীদের কাছে এর কদর বেড়ে যায়। যাত্রী বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যাপক লাভের আশায় অনেকেই আলফা-মাহেন্দ্র ক্রয় করে নেমে পড়েন পরিবহন ব্যবসায়। এক পর্যায়ে নগরী এবং এর আশপাশের সড়কগুলো চলে যায় নতুন এ যানের দখলে। পাশাপাশি চলে ইজি বাইক। রিকশা ও টেম্পো বিক্রি করেও অনেকে ক্রয় করেছেন আলফা-মাহেন্দ্র। এখন নগরী ও আশপাশে টেম্পো ও রিকশার চেয়ে ইজি বাইক ও আলফা-মাহেন্দ্র’র সংখ্যা অনেক বেশি। রমরমা এ ব্যবসায় যুক্ত ব্যক্তিরা গঠন করেছেন শ্রমিক কল্যাণ সমিতি। বৈধ- অবৈধ উভয় প্রকার আলফা-মাহেন্দ্র’র মালিক-চালক ও শ্রমিকদের নিয়ে গঠিত হয়েছে এ সমিতি। সকলের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য এ কমিটি গঠন করা হলেও ক্রমেই কমিটির নেতাদের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসতে শুরু করে মোটা অংকের মাসোহারা আদায়সহ ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ।
পরিবহন শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে নগরী ও আশপাশের এলাকায় সহস্রাধিক আলফা- মাহেন্দ্র চলাচল করে। এরমধ্যে ৫শ আলফা- মাহেন্দ্র সমিতির টোকেন নিয়ে লাইসেন্স ছাড়াই চলাচল করছে। প্রতিটি আলফা-মাহেন্দ্র’র জন্য টোকেন নিতে মাসে এক হাজার টাকা দিতে হয় সমিতিকে। আবার নতুন আলফা মাহেন্দ্র যুক্ত করলে সমিতির অন্তর্ভুক্ত হতে দিতে হয় নগদ ১০ হাজার টাকা। সমিতির নেতারা এ টাকার নির্দিষ্ট অংশ জমা দেন তিন থানা ও ট্রাফিক পুলিশদের দপ্তরে।
বরিশাল বিআরটিএ’র হিসাবে ২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত বরিশাল নগরীসহ জেলায় চলাচলের জন্য মাত্র ৪২০টি আলফা-মাহেন্দ্র’র লাইসেন্স প্রদান করেছে। বিআরটিএ’র ভাষ্য অনুযায়ী ৪২০টি ব্যতীত বাকি সকল আলফা-মাহেন্দ্র অবৈধ। কিন্তু পুলিশ কেন অবৈধ এ সব যানবাহন চলাচলে বাধা দিচ্ছে না তা রহস্যজনক বলে জানান বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা। আলফা-মাহেন্দ্র চালক গৌতম জানালেন, গত ৪ বছর তিনি গাড়িতে ‘অন টেস্ট’ লাগিয়ে যাত্রী বহন করছেন। ট্রাফিক পুলিশ ধরলে সমিতির টোকেন দেখাতে পারলে আর কোন ঝামেলা নেই। তবে প্রতিমাসে এক হাজার টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহ না করলে সার্জেন্টরা গাড়ি আটক করে ট্রাফিক অফিসে নিয়ে যায়। তখন মোটা অংকের টাকা গুনতে হয়।
ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এটিএম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, সমিতির কাছ থেকে পুলিশের টাকা নেয়ার অভিযোগ সত্য নয়। সমিতির নেতারা পুলিশের নাম ব্যবহার করে তাদের লোকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করলে আমাদের করার কি আছে। বরং ট্রাফিক বিভাগ নিত্যদিনই অবৈধ যানবাহন আটক ও মামলা দায়ের করছে।
টেম্পো মালিক ও শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ শাহজাহান হোসেন বলেন, আলফা-মাহেন্দ্র’র মালিকরা সুষ্ঠুভাবে যানবাহন চালিয়ে আয় রোজগার করছেন। তাদের অভিযোগ না থাকলে সমস্যা কি।
