‘আমার মেয়ে সব কাজ জানে। আপনাদের বাড়ি গেলে আপনাদের কোনো কাজই করতে হবে না। আপনাদের পায়ে ওকে একটু আশ্রয় দিন’—এ কথাগুলো এক হিন্দু পরিবারের বিয়ের কন্যার বাবা-মায়ের। আর এ কথাগুলো বলা হলো ছেলেপক্ষের বাবা-মাকে। সে বাড়িতে যদি মেয়েটির বিয়ে হয় তবে দেখা যায় বিয়ের পর তাদের বাড়ির ঝিকে বিদায় করে দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারটি শুধু হিন্দু পরিবারগুলোতেই ঘটে তা নয় প্রায় মুসলমান পরিবারের মেয়েদেরও একই অবস্থা। হিন্দু বৌরা শ্বশুরবাড়িতে দাসী আর মুসলমান মেয়েরা বাঁদি। আহা, সংসারে তাদের কী সুন্দর অবস্থান! মেয়েদের এ অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটিমাত্র পথ আছে। আর সেটি হলো মেয়েদের শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তোলা। তাদের নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করা। পণ ও যৌতুক হিসেবে যে অর্থ বরপক্ষকে দেয়া হয় সে অর্থ দিয়েই মেয়েকে শিক্ষিত করা যায়, স্বনির্ভর করা যায়।
আশাকরি কন্যাপক্ষের অভিভাবকগণ বিষয়টি গভীরভাবে ভেবে দেখবেন। মেয়েদের, নারীদের যারা দাসী ভাবে এবং যৌতুক ও পণ্যের জন্য লালায়িত তাদের চপেটাঘাত করার একটিমাত্র পথ আর তা হলো শিক্ষা, শিক্ষা এবং শিক্ষা। হাজার বছরের হীনম্মন্যতার জগদ্দল পাথরটিকে ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে অতল গহ্বরে চিরদিনের মতো, চিরকালের মতো।
কবিতা চাকলাদার,
সহকারী অধ্যাপক (অর্থনীতি),
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ, লক্ষ্মীপুর
