একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে ত্রাণ অধিদপ্তরে। সারাদেশে চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ কৌশলে স্থবির করে দিয়েছে ঘাপটি মেরে থাকা সরকারবিরোধী কর্মকর্তাদের একটি চক্র। লক্ষ্য সরকারকে বিপাকে ফেলা। শুধু চলমান প্রকল্পে ধীরগতি আনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই তারা, একনেকে পাস হওয়া হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পও বাস্তবায়ন করছেন না। আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে সারাদেশে সরকারদলীয় প্রার্থীদের ভোটের ক্ষেত্রে যেন নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, সেই উদ্দেশ্য থেকেই কতিপয় কর্মকর্তার এই কারসাজি বলে জানা গেছে।
ত্রাণ অধিদপ্তরের সরকারি দলপন্থি একাধিক কর্মকর্তা জানান, অধিদপ্তরের বর্তমান মহাপরিচালক দায়িত্বে এসেছেন মাস দুয়েক আগে। এরমধ্যেই তিনি শতাধিক কর্মকর্তাকে বদলি করেছেন।
জানা গেছে, প্রায় ৭০০ কোটি টাকার ‘এইচবিবি’ প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত। এক বছরেরও বেশি সময় আগে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকে এই প্রকল্প পাস হলেও এখন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে দরপত্র হয়নি। এর মাধ্যমে কৌশলে কালক্ষেপণ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না করে সরকারের বদনাম করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও একনেকে অনুমোদন পায় এক বছর আগে, এটারও দরপত্র হয়নি। এটাসহ দুটি প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা পারিবারিকভাবে সরকারবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে শোনা গেছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কয়েকজন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাও (পিআইও) জড়িত। এছাড়া সম্প্র্রতি একনেকে পাস হওয়া একটি বড় প্রকল্পের দায়িত্ব পেতে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কেউ কেউ জোর লবিং—তদ্বির করছেন। গত প্রায় দুই বছরে যারা হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেনি, বরং সরকারকে বিপাকে ফেলতে কৌশলে এসব প্রকল্পের কাজ প্রায় বন্ধ রেখেছেন, তারাই উল্টো বড় প্রকল্পের দায়িত্বে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
