রাশিয়া চীনের ভেটোতেও সিরিয়ায় হামলা চালাবে ব্রিটেন

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৫
সিরিয়ায় হামলা চালানোর জন্য জাতিসংঘের অনুমোদন না পেলেও কিংবা নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া এবং চীন ভেটো দিলেও হামলা চালাতে পিছপা হবে না ব্রিটেন! ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা বলেছেন, ‘মানবতার জন্য হিতকর’ বিবেচনায় এই হামলা যৌক্তিক। সিরিয়ায় হামলা চালানোর জন্য ব্রিটেন এতটা আগ্রহী তার কারণ, ব্রিটেনের শীর্ষ গোয়েন্দারা বলেছে, সিরিয়ার সরকারই যে ওই আলোচিত রাসায়নিক হামলা চালিয়েছিল তা অনেকটা নিশ্চিত। সিরিয়ায় হামলা চালানোর জন্য গতকাল পার্লামেন্টে বিতর্ক শুরু করে সরকার। এদিকে, জাতিসংঘ এই মুহুর্তে হামলা চালানোর পক্ষপাতি নয়। সংস্থাটির অস্ত্র পরিদর্শক দল সিরিয়ায় তদন্ত শেষে তাদের পূর্ণ রিপোর্ট হস্তান্তরের পরেই হামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে বিশ্বসংস্থাটি। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন গতকাল বলেছেন, শনিবার (আগামীকাল) পরিদর্শক দল তাদের তদন্ত শেষ করে সিরিয়া ত্যাগ করবে। এরপর তারা তদন্তের ফল সম্বলিত রিপোর্ট পেশ করবেন। অপরদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও বলেছেন তিনি হামলার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে একথা বলেছেন, যে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগের অনেক ধরাবাধা নিয়ম আছে। সিরিয়া সেই নিয়ম লংঘন করার অধিকার রাখে না। তিনি আরো বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দারা ভালো করে সাক্ষ্যপ্রমাণ ঘেঁটে দেখেছেন। সিরিয়ার বিদ্রোহীদের হাতে এমন কোনো অস্ত্র পৌছেছে বলে একটি প্রমাণও পাওয়া যায়নি। আর যাতে কোনোদিন রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করতে পারেন সেজন্য সিরীয় প্রেসিডেন্টের কাছে যুক্তরাষ্ট্র একটি কঠিন সিগন্যাল পৌঁছে দিতে চায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বিতর্ক : সিরিয়ায় বেসামরিক লোকদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের জবাবে সেখানে সামরিক অভিযান চালানো হবে কিনা, তা নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গতকাল বিতর্ক শুরু হয়। তবে ভোটাভুটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিরোধী দল লেবার পার্টি বলেছে, তারা এমন কোন প্রস্তাব সমর্থন করবে না এবং ওই আক্রমণ যে প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদের বাহিনীই চালিয়েছিল সে সম্পর্কে আরো জোরালো প্রমাণ দিতে হবে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন এই বিশেষ অধিবেশনের ডাক দিয়েছেন। পার্লামেন্টে গতকাল বিতর্কের আগে প্রধান বিরোধীদল লেবার পার্টির নেতা এড মিলিব্যান্ড বলছেন, এই সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে কোন কৃত্রিম সময়সীমার মধ্যে জড়িয়ে যাওয়া ব্রিটেনের উচিত হবে না। আর কোন আক্রমণ যদি চালা তেও হয় তার আগে এর পক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ লাগবে। উল্লেখ্য, লেবার পার্টি মঙ্গলবার বলেছিল যে ব্রিটিশ সরকার সিরিয়ায় কোন সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিলে তারা তাতে সমর্থন দেবে। কিন্তু গতকাল মিলিব্যান্ড বলেন তারা এই সিদ্ধান্ত বদলেছেন, কারণ তিনি মনে করছেন ব্রিটেনের জনগণ তাদের কাছ থেকে এধরনের সিদ্ধান্তই আশা করে। প্রতিবেদন প্রকাশ : সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ সম্পর্কে ব্রিটিশ সরকারকে যে গোয়েন্দা পরামর্শ দেয়া হয়েছে, তার বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে। জয়েন্ট ইন্টেলিজেন্স কমিটির এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী গত সপ্তাহে দামেস্কে রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং সিরিয়া প্রশাসনের এই হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাদের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, সিরিয়ার বর্তমান শাসকদের পক্ষে এই হামলা চালানো সম্ভব বলে তাদের কাছে কিছু গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। তারা বলছে দেশটির কোনো বিরোধী দলের এত ব্যাপক মাত্রার রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালানোর ক্ষমতা নেই। সিরীয় স্পিকারের চিঠি :সিরীয় সংসদের স্পিকার ব্রিটিশ পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন যে চিঠিতে ব্রিটিশ সংসদের একটি প্রতিনিধিদলকে সিরিয়া যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই চিঠিতে বলা হয়েছে জাতিসংঘের রাসায়নিক অস্ত্র পরিদর্শকদের তদন্ত ফলাফল যাচাই করে দেখার জন্য ব্রিটিশ এমপিরা তাদের বিশেষজ্ঞ দল নিয়ে যেতে পারেন। এই চিঠির শুরুতে লেখা হয়, সিরিয়ার ওপর আক্রমণ চালানো হবে কীনা তা নিয়ে আপনারা বিতর্ক শুরু করার আগে আপনাদের বিবেচনা করে দেখতে অনুরোধ করছি যে আপনাদের বোমাবর্ষণে সিরিয়ার নিরীহ মানুষের রক্ত কী ঝরবে না? আপনারাও তো বাবা-মা। আপনাদেরও তো পরিবার আছে। চিঠিতে বলা হয়, জাতিসংঘের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তাই সিরিয়ার বিবেচনায় এধরনের আগ্রাসী যুদ্ধ হবে অবৈধ।