জেলার ভূগর্ভস্থ পানিতে ভয়াবহ পরিমাণে আর্সেনিক আছে। এ কারণে গত ২ বছরে ১৬ জনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। এছাড়া আক্রান্ত ২ হাজার রোগী ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে ভূ-গর্ভের পানির স্তর দ্রুত হারে নিচে নেমে যাওয়ায় আর্সেনিকের মাত্রা বাড়ছে। ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রতিদিন আর্সেনিক ঝুঁকির আওতায় মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে মেহেরপুর সদর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের নলকূপগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এতে আক্রান্ত রোগীরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছে না। জীবিকা উপার্জনের ওপর এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া পর্যাপ্ত গবেষণা, উদ্যোগ ও প্রচারের অভাবে প্রকৃত অবস্থা জানা যাচ্ছে না। কিন্তু প্রতিকূল অবস্থা বিরাজ করছে বলে সংশ্লিষ্টরা অনুমান করছেন।
সরেজমিনে জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের বেলতলাপাড়া ও আলমপুরকে আর্সেনিক আক্রান্ত প্রধান এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ২ বছরে শুধু আলমপুর গ্রামের ৮ পরিবারের ১৬ জন মানুষ আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। সর্বশেষ মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় গত ১৮ আগষ্ট মারা গেছেন একই গ্রামের মনিরুল ইসলাম। এছাড়া অসুস্থ অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে প্রায় শতাধিক মানুষ। বেসরকারি সূত্রে বলা হয়েছে, বেলতলাপাড়া গ্রামের শতকরা ৫০ ভাগ নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক পাওয়া গেছে। এই গ্রামে রোগীর সংখ্যা ১৮৭ জন। আলমপুর গ্রামে শতকরা ৯৫ভাগ নলকূপে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিককবলিত রোগীর সংখ্যা ২৯৫ জন।
মেহেরপুর সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নে আর্সেনিক যুক্ত নলকূপের সংখ্যা ১৬৯৬টি। এছাড়া বুড়িপোতা ইউনিয়নে ৩৫৭টি, আমঝুপি ইউনিয়নে ৭৫০টি, আমদহ ইউনিয়নে ৩৭৮টি এবং পিরোজপুর ইউনিয়নে ৭৭৪টি আর্সেনিক যুক্ত নলকূপ রয়েছে। বেসরকারি সংস্থার মতে, জেলার সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ২ হাজার আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগী রয়েছে। এজন্য জনবল, উদ্যোগ, আর্থিক সহায়তাসহ আর্সেনিক ঝুঁকি প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। না হলে অবস্থা আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
