মোরেলগঞ্জে মাছ ও সবিজ চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৩, ২০:৪৩
সুপিয়া বেগম, পারভীন বেগম, জবেদা বেগমরা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কোডেক “বসতবাড়ির পুকুরে মাছ ও সবিজ চাষ ব্যবস্থাপনা” বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজ উদ্যোগে বসতবাড়ির আঙ্গিনার পুকুরে মাছ চাষ ও পুকুর পাড়ে সবজি চাষ করে এখন স্বাবলম্বী হয়েছে। এতে একদিকে তাদের পরিবারের পুষ্টির অভাব পূরণ হচ্ছে অপরদিকে বিক্রির মাধ্যমে তারা জাতীয় পুষ্টি সাধনে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ইউএসআইডি’র অর্থায়নে ও ওয়ার্ল্ড ফিস-এর সহযোগিতায় কোডেক উদ্যোগে “ফিড দ্য ফিউচার এ্যাকুয়া কালচার প্রকল্পের” আওতায় বাস্তবায়ন করছে “বসতবাড়ির পুকুরে মাছ ও সবিজ চাষ ব্যবস্থাপনা” বিষয়ক প্রশিক্ষণ। ধানসাগর, নিশানবাড়িয়া, খাউলিয়া, হোগলাবুনিয়া, বলইবুনিয়া, চিংড়াখালী, হোগলাপাশা, বনগ্রাম, রামচন্দ্রপুর, জিউধরা ইউনিয়নের ৬ হাজার ৫শ’ নারীকে গ্রুপ করে কয়েকটি ধাপে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রতি গ্রুপে থাকবে ২৫ জন নারী সদস্য। এ বিষয়ে নারীদের উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে দুই বছরে প্রায় ৩০টি প্রদর্শনী পুকুরে কার্প জাতীয় মাছ ও পুকুর পাড়ে সবজি চাষ করা হয়। সদস্যদের মধ্যে থেকে বাড়ির আঙ্গিনার আদর্শ পুকুর চিহ্নিত করে মাছ ও সবজি চাষের ব্যবস্থা করা হয়। এসব প্রদর্শনী পুকুরের সদস্যদের চাষের জন্য শতকে ৫ কেজি মাছ যেমন রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প মাছের পোনা সরবরাহ করা হয়। প্রতিটি পুকুর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পরিমাণমত নেট জাল এবং ৩-৪ মাসের ফিস ফিড বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। প্রকল্পের টেকনিক্যাল সহযোগী প্রকল্প সমন্বয়কারী একেএম হুমায়ুন কবির, ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর রফিকুল ইসলাম, আব্দুর রহিম এবং ওয়ার্ল্ড ফিস এর সিনিয়র টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট নাজমুল আলম বলেন, এ প্রযুক্তি বাস্তবায়নের পরে এসব নারী চাষীরা নিজ উদ্যোগে বাড়ির আঙ্গিনার পুকুরে মাছ ও সবজি চাষ করে এলাকার ও জাতীয় পুষ্টি সাধনে সহযোগিতা করতে পারবে। এ প্রকল্পের ফিল্ড অর্গানাইজার সুব্রত হালদার, শিল্পী রানী, নাসির হোসেন, সোহেল আজগর, রবিউল ইসলাম, সারাবান তহুরা, খাদিজা আকতার, নমিতা রানি, দেবাশিষ, মনোশিষ বিশ্বাস, জুলফিকার ও তারক চন্দ্র জানান, প্রদর্শনী সুবিধাভোগীদের পুকুর পাড়ে সবজি চাষের জন্য গ্রীষ্মকালীন ও শীতকালীন সবজি বীজ করলা, চিচিঙ্গা, মিষ্টি কুমড়া, শসা, লাউ, লাল শাক বিতরণ করা হয়। একদিকে যেমন এসব সুবিধাভোগীরা মাছ চাষ করে লাভবান হচ্ছে অপরদিকে সবজি চাষ করেও আয় বৃদ্ধি করছে। এ প্রকল্পের আওতায় মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা ও মংলা উপজেলার উপকারভোগী ১৮ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ আওতায় আনা হয়।