গ্রামের সহজ সরল গৃহবধূ নাজমা। ইচ্ছা ছিল লেখা পড়া শেষে শিক্ষকতা করার। কামিল পাস করার পরও তা না হওয়ায় বাড়িতেই ডেইরি খামার শুরু করেন। খামারের আয় দিয়ে সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতা আনতে স্বামীর সাথে বিশেষ অবদান রাখতে পারায় সে খুশি। ডেইরি খামার দিয়ে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন নাজমা দম্পতি। তাদের খামার এলাকায় দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। কিন্তু নাজমা আজও স্বপ্ন দেখেন শিক্ষকতার।
নাজমা জানান, ২০০৫ সালে আলিম পরীক্ষার আগেই উপজেলার রামনাথপুর গ্রামের ছফের উদ্দিনের পুত্র কেরামত আলীর সাথে তার বিয়ে হয়। স্বামী কেরামত আলী ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সাংসারিক নানাবিধ সমস্যার কারণে হাইস্কুলের পড়া শেষ করতে পারেনি। তাই বিয়ের পর নাজমাকে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে যাবার প্রেরণা যোগান। স্বামীর প্রেরণা আর নিজের আত্মপ্রত্যয়ে সংসারের কাজ করেও নাজমা পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ওই বছরে আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এভাবেই ২০০৭ সালে ফাজিল ও ২০০৯ সালে ফিকাহ্ শাস্ত্রে প্রথম বিভাগে কামিল পাস করার পর চাকরির জন্য অনেক ঘুরেছেন। কিন্তু চাকরি হয়নি তার। ইতোমধ্যেই দু’পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জননী হন তিনি।
নাজমা জানান, বুকের দুধে দু’পুত্র সন্তানের যথেষ্ট খাবার না হওয়ায় গাভীর দুধের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। এখান থেকেই তাদের দুধের চাহিদা পূরণ ও সংসারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে আনতে বাড়িতে ডেইরি খামার গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। স্বামীর সহায়তায় দেশিজাতের ২টি গাভী ও ২টি এড়েবাছুর বিক্রি করে ২০০৮ সালে প্রথমে ৭২ হাজার টাকায় ১টি বাছুরসহ ফ্রিজেন গাভী ক্রয় করেন। ১ মাস পর বাছুরসহ ওই গাভীটি একই দামে বিক্রি করে আবারও ৫২ হাজার টাকায় একই জাতের ১টি গাভী ক্রয় করেন। ক্রয়ের ১ দিন পর গাভীটি বাচ্চা দেয়। ৮ মাসে ওই গাভীর দুধ বিক্রি করেন ৮৮ হাজার টাকা। এড়ে বাছুরটি বিক্রি করেন ১৬ হাজার টাকায়। এই টাকা দিয়ে আরও একটি গাভী ক্রয় করেন। এভাবেই অল্প সময়ের মধ্যে তার ডেইরি খামার গড়ে ওঠে। বর্তমানে খামারে সাড়ে ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ৫টি গাভীসহ ফ্রিজেন ও সাইওয়ান জাতের ৬টি গাভী ও ৩টি বাছুর রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাচ্চা দেবে সেগুলো। এখনও গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৪ শত টাকার দুধ বিক্রি হয়। এতে খামারের যাবতীয় ব্যয় বাদে প্রতিমাসে গড়ে ১৫/২০ হাজার টাকা নীট মুনাফা হয়ে থাকে। কিছুদিন আগে ৪টি বাছুর বিক্রি করেছেন ৬৪ হাজার টাকায়।
ডেইরি খামার দিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন নাজমা দম্পতি। তাদের দুই ছেলে মাদারগঞ্জ কিন্ডার গার্টেন স্কুলে পড়ে। ছোট মেয়ের বয়স ১ মাস। সফল খামারি নাজমার চোখে আজও শিক্ষক হবার স্বপ্ন।
