জনগণ একদিনের গণতন্ত্র চায় না

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৫
গণতন্ত্র মানে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতের প্রাধান্য হলেও এদেশে তা শুধু মুখের কথায় পরিণত হয়েছে। রাজনীতিবিদরা কথায় কথায় শুধু গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে তাঁরা গণতন্ত্র চর্চার ক্ষেত্রে কত দূরে অবস্থান করছেন তা তাঁরা বোঝেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। নাকি তাঁরা জনগণকে বোকা বানাতে চান? জনগণ যে দিন দিন রাজনীতিবিদদের ওপর আস্থা হারাচ্ছে সেটা কি তাঁরা উপলব্ধি করেন? গণতন্ত্রের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। যে গণতন্ত্র জনগণের মৌলিক অধিকার, সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয় সেই গণতন্ত্র কতদিন বাঁচিয়ে রাখা যাবে? জনগণের সচেতনতা ব্যতীত একটি দেশের গণতন্ত্র সুরক্ষা করা কখনো সম্ভব নয়। বিগত ৪টি সাধারণ নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের মানুষ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করেছে বলে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অভিমত। কিন্তু এই গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে যাঁরা পালাক্রমে ক্ষমতায় এসেছেন তাঁরা খুব খুশি মনে জনগণকে তা দিয়েছেন সেটা কখনো বলা যাবে না। কারণ প্রতিবারই প্রাণহানি, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থের ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে তা এ জাতি পেয়েছে। আগামী সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রেও ঠিক তারই পুনরাবৃত্তি হোক তা এদেশের জনগণ চায় না। ক্ষমতায় বসে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার আকাঙ্ক্ষার ফলে যে কত মায়ের কোল শূন্য হয়েছে, সন্তান বাবাহারা হয়েছে ও স্ত্রী স্বামী হারিয়েছে তা রাজনীতিবিদরা ভেবে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। যদি তাঁদের মধ্যে সামান্যতম অনুভূতি জাগ্রত হতো তাহলে একই পথে বার বার তাঁরা হাঁটতেন না। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘ এই পথ পরিক্রমায় যত রক্তে ঝরেছে গণতন্ত্র রক্ষার নামে তার সঠিক মূল্যায়ন হবে কিনা তাও জানে না এই দেশের জনগণ। গণতন্ত্রে ভোটাধিকারের মাধ্যমে নিজ পছন্দের নেতা নির্বাচন অন্যতম অধিকার। যখনই নির্বাচন তখনই একের প্রতি অন্যের বিপরীত অবস্থান দেখে মনে হয় তাঁরা চান গণতন্ত্রের বিপরীতে তাঁদের কাউকে রাজতন্ত্রের মাধ্যমে চিরস্থায়ী ক্ষমতা দেওয়া হোক। গণতন্ত্রের ব্যাপক যে অর্থ তা থেকে আমরা এমনিতে অনেক দূরে রয়েছি। জনগণ একদিনের গণতন্ত্র চায় না। এটা বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বুঝতে বাধ্য করা একান্ত প্রয়োজন। এই ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে দুই জোটের মধ্যে পারস্পরিক মতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দলের স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে জনগণের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে এটাই সকলে প্রত্যাশা করে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাঁরা আছেন তাঁদের দায়িত্ব বেশি। গণতন্ত্র তার নিজ গতিতে আপন মহিমায় বিকশিত হোক। ঢাকা