পরিবারের ভূমিকার বিকল্প নেই

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪৫
অসুখ হওয়ার পর আমরা তা সারানোর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি অথচ ঘটনা ঘটার আগেই যে সচেতন হওয়া দরকার তা আমরা বুঝি না। মিডিয়ার কারণে আমরা মাদকের ভয়াবহতার চিত্র দেখছি; এই মাদক নতুন প্রজন্মের হাতে ছড়াচ্ছে হরহামেশাই। আর তা নিয়ে সরকার কতটুকু মাথা ঘামাচ্ছে? দেশে ৮০ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে যার মধ্যে ৩০ ভাগই মেয়ে। আসক্তির আধুনিক এক ভারসনের নাম ইয়াবা, যা প্রতিনিয়ত যুবসমাজকে কুরে কুরে খাচ্ছে। সীমান্তপথে মাদক আসে, মায়ানমার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ব্যাপক হারে ইয়াবা আসে বাংলাদেশে। তাহলে এসব যারা নিয়ন্ত্রণ করে তারা কোথায়? এত কিছুর পরও এসব নিয়ে সংসদে কি উচ্চবাচ্য হয়েছে কোনোদিন? তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন নিয়েই বা ক’দিন কথা হয়েছে? তাহলে নতুন প্রজন্মকে ধ্বংস করার দায় কে নেবে? যুগের প্রয়োজনে মেধা-চিন্তায় নিজেকে বিকশিত করা এবং রুচিশীল সংস্কৃতি ধারণ করাই আধুনিকতা। একটি ছেলে বা মেয়ে কেমন হবে তার ৮০% নির্ভর করে পরিবারের ওপর বাকি ২০% পরিবেশের ওপর। তাহলে নিয়ন্ত্রণ যেহেতু বাবা-মায়ের হাতে সুতরাং তাদের বুঝতে হবে সন্তানের সার্বিক অবস্থা। ন্যূনতম মার্জিতবোধ যদি পরিবার থেকে দেওয়া না যায় তাহলে তা আর পূরণ হয় না। স্বাধীনতা ভালো কিন্তু অবাধ স্বাধীনতা কখনোই ভালো হতে পারে না। ঐশীর অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি, অনেকদিন লেগেছে। তার মা-বাবা যদি ন্যূনতম খোঁজটুকুও নিতো তাহলে এত খারাপ অবস্থা হওয়ার কথা নয়। যাদের হাতে পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব যাবে তাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সঠিক পথে রাখার দায়িত্ব তো আমাদের। আমরা যদি সুন্দর সমাজ সংস্কৃতি দেখতে চাই তাহলে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। গণমাধ্যমের ভূমিকা আরো জোরালো করতে হবে। সর্বোপরি পরিবারের ভূমিকার বিকল্প নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়