সোনালি আঁশ ফিরে পাবে সোনালি গৌরব

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০১৩, ২৩:০৪
জাতীয় সংসদ ভবনের উল্টোদিকে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই)। ক্যাম্পাসের মূল ফটক দিয়ে একটু সামনে গেলে দেখা যাবে সাদা রঙের নতুন একটি ৪তলা ভবন। বাইরে থেকে বোঝা না গেলেও এটি একটি আন্তর্জাতিকমানের গবেষণা প্রতিষ্ঠান। বায়ো টেকনোলজি বিভাগের একটি পুরনো দোতলা ভবনকে সংস্কার করে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে ‘পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পর যাত্রা শুরু হয়। এ ভবনেই পাটের জন্য ক্ষতিকর ছত্রাক ও দেশি পাটের ‘জীবন রহস্যর উন্মোচনের মত ঐতিহাসিক কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালের ১৬ জুন জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীর কাছে তোষা পাটের জিনোম সিকোয়েন্স উদঘাটনের কথা জানান। এ কাজটি ‘জুট জেনোম সিকোয়েন্স’ শিরোনামে সরকারি তহবিল বরাদ্দের মাধ্যমে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে গবেষণার কাজটি শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পাটের জন্য ক্ষতিকর এক ধরনের ছত্রাকের ‘জীবন রহস্য’ উন্মোচন হওয়ার খবর দেন। সর্বশেষ গত ১৮ আগস্ট গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশি পাটের জেনোম সিকোয়েন্স উদঘাটনের খবর জানান দেশবাসীকে। পাটের ‘জীবন রহস্য’ উন্মোচনের নেতৃত্বদানকারী হলেন যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞানের অধ্যাপক বাংলাদেশের মাকসুদুল আলম। এর আগে তারই নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা তোষা পাট ও পাটের জন্য ক্ষতিকারক এক ধরনের ছত্রাকের জেনোম সিকোয়েন্স উন্মোচন করেন। পূর্বকথা জেনোম সিকোয়েন্সের ঠিক আগের ধাপ ‘শংকরায়ণ’ নিয়ে কাজ করেছিলেন বিজেআরআই-এর সাবেক বিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আহমেদ শামসুল ইসলাম। তার এ গবেষণাটি প্রবন্ধ আকারে ১৯৬০ সালে বিখ্যাত বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়। এরপর ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ‘জার্নাল অব প্ল্যান্ট টিস্যু কালচার অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি’তে তার নেতৃত্বে পাটের জিন ক্লোনিং নিয়ে প্রকাশিত হয় একটি গবেষণা প্রবন্ধ। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সুবিধার সঙ্গে সঙ্গে গবেষণারও অগ্রগতি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন ভারতীয় বিজ্ঞানীর সাথে আমি যৌথভাবে পাটের জেনোম নিয়ে কাজ শুরু করি। আমাদের কাজটি ছিল প্রাথমিক পর্যায়ের। এরপর অধ্যাপক মাকসুদুল এ কাজটির পূর্ণাঙ্গ রূপ দিলেন। এক নিমগ্ন বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুলের জন্ম ঢাকায়, শহীদ পরিবারে। তারা ৮ ভাই-বোন। গভর্মেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে তিনি রাশিয়ায় যান। মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি মাইক্রোবায়োলজিতে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া জামার্নির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট থেকে বায়োকেমেস্ট্রিতে তিনি আরেকটি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ১৯৯২ সালে আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে তিনি সহকারী অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। এখনো তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ইতিমধ্যেই তিনি পেঁপে ও রাবারের জিন নকশা উদঘাটন করেছেন। যেভাবে শুরু ২০০৬ সাল থেকে অণুজীব বিজ্ঞানী ড. মাকসুদুল আলম পাটের ‘জীবন রহস্য’ উন্মোচন করার আগ্রহ দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ‘স্বপ্নযাত্রা’ নামে একটি উদ্যোগের মাধ্যমে ২০০৮ সালে পাটের জেনোম সিকোয়েন্সের গবেষণার ব্যাপারে কিছু কথাবার্তা হয়। এরপর ২০০৯ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে একটি দৈনিক পত্রিকায় অধ্যাপক মাকসুদুলকে নিয়ে প্রকাশিত হয় একটি প্রতিবেদন। প্রতিবেদনটি পড়ে কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী তার খোঁজ করেন। ওই মাসের শেষ দিকে তিনি মন্ত্রীর সাথে দেখা করে তার পরিকল্পনার কথা বলেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মতি ও নির্দেশে এ গবেষণার উদ্যোগ নেয়া হয়। ২০১০ সালে নতুন উদ্যমে খুব গোপনীয়তার সাথে আবারো শুরু হয় এ গবেষণার কাজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিভাগের ১১ জন গবেষক, বিজেআরআই-এর ১১ জন গবেষক ও ডাটা সফটের ২০ জন তথ্য-প্রযুক্তিবিদ তথ্য বিশ্লেষণের কাজগুলো করেছেন। অধ্যাপক মাকসুদুলের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিজেআরআই ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডাটাসফটের একদল উদ্যমী গবেষকের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০১০ সালের মাঝামাঝি সফলভাবে উন্মোচিত হয় পাটের জিন নকশা। এ গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ ও কারিগরি সহায়তা যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াই এবং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স মালয়েশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া যায়। গবেষণার বিভিন্ন স্তরে প্রায় ২ কোটি তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ তথ্য ব্যাখ্যা করতে তৈরি করা হয় একটি মিনি সুপার কম্পিউটার। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক (ও কথাসাহিত্যিক) মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ডাটা সফটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব জামান তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক কাজগুলো তত্ত্বাবধান করেন। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, পাট পাট করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পাকিস্তান আমলে আমরা পাট নিয়ে বক্তৃতা দিয়েছি, আন্দোলন করেছি। আমাদের পাটের টাকায় ইসলামাবাদ হয়েছে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা পাটের উন্নতিকল্পে কাজ করতে চেয়েছি। আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও কাজ করে আমরা অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে চাই। তিনি আরো বলেন, পাট নিয়ে আমাদের গবেষণা কেন্দ্র আছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশে আমরা এ কাজটি শুরু করি। অধ্যাপক মাকসুদুল পেঁপে ও রাবারের জিন নকশা উদঘাটন করেছেন। সচলায়তন ব্লগের সদস্য তাসনীমকে ২০১০ সালের জুন মাসে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে অধ্যাপক মাকসুদুল আলম বলেন, বাংলাদেশিদের জন্য পাট শুধুমাত্র একটি আঁশ উত্পাদনকারী গাছ নয়। বরং এটা আমাদের জন্য জাতীয় প্রতীক। পাটের সঙ্গে আমাদের সোনার বাংলা ধারণার একটা যোগসূত্র আছে। সোনার বাংলা ঘিরে গড়ে উঠেছে আমাদের জাতিগত ঐতিহ্য, সেখানে ঢেউ খেলানো সোনালি ধান ক্ষেত আর সোনালি আঁশ এ দুটি যেন আমাদের মুক্তির সন্ধান দেয়। এ কথাগুলো বলেছেন অস্ট্রেলিয়া নিবাসী জিন বিজ্ঞানী আবেদ চৌধুরী (যিনি এ প্রকল্পের অন্যতম স্বপ্নদ্রষ্টা) তার ‘সোনালি আঁশ’ লেখায়। পাট নিয়ে গবেষণার মূলমন্ত্র ছিল এ কথাগুলোই। দারুণ মেধাবী ও দেশপ্রেমী একটি দল পাট নিয়ে তাদের কাজ শুরু করেছে একদম সঠিক সময়ে। অধ্যাপক ও কথাসাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, অধ্যাপক মাকসুদুল একটি অসাধারণ ল্যাব তৈরি করেছেন। দেশে এমন ল্যাব নেই। বায়োলজি ও ইনফরমেশন টেকনোলজির একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আমার একান্ত ইচ্ছা নতুন প্রজন্ম এ ল্যাবে কাজ করতে আসবে। তাদেরকে এই সুযোগ করে দিতে হবে। পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১০ সালের ১৬ জুন জাতীয় সংসদে পাটের ‘জীবন রহস্য’ উদঘাটনের কথা দেশবাসীকে জানান। পাট নিয়ে এ গবেষণার কাজ অধ্যাপক মাকসুদুলের নেতৃত্বে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে সরকারের বরাদ্দ করা অর্থের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী পাটের ‘জীবন রহস্য’ দেশবাসীকে জানানোর পর সরকারি অনুমোদন ও অর্থায়নে অধ্যাপক মাকসুদুলের নেতৃত্বে ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে ‘পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণা প্রকল্পে’র কার্যক্রম বিজেআরআই’র ক্যাম্পাসে শুরু হয়। প্রাথমিক অবস্থায় বায়ো টেকনোলজি বিভাগের পুরানো ২ তলা ভবনে সংস্কার করে ‘বায়ো ইনফরমেটিক ল্যাব’ ও ‘মলিকুলার বায়োলজি ল্যাব’ গড়ে তোলা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা অর্থ দিয়ে পরবর্তী সময়ে ওই ভবনে ৩ ও ৪ তলা নির্মাণ করে ল্যাব গড়ে তোলা হয়। তারা বলেন, এই গবেষণাগার গড়তে গিয়ে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে কম দামে কেনা হয়েছে সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন যন্ত্রপাতি। নির্ধারিত বরাদ্দের প্রায় অর্ধেক টাকায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে। এমনকি অধ্যাপক মাকসুদুল এ প্রকল্পের প্রধান হিসাবে কোনো পারিশ্রমিক নেননি। এ প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর অধ্যাপক মাকসুদুল আলম, প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কামালউদ্দিন ও প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আছেন ড. মনজুরুল আলম। ল্যাবরেটরি ও গবেষণা কাজের টিম লিডার হলেন—ড. সামিউল হক, ড. শহীদুল ইসলাম ও প্রকৌশলী শরীফুর রহমান। এ প্রকল্পের মাধ্যমে গবেষণা করে ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর পাটের জন্য ক্ষতিকর ছত্রাকের জিন নকশা উদঘাটন করা হয়। ‘ম্যাক্রোফমিনা ফাসিওলিনা’ নামের ছত্রাকটি সারা দুনিয়ায় ৫শ’ উদ্ভিদের উত্পাদন ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই ছত্রাকের আক্রমণে শুধু পাটের উত্পাদনই ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ কমে যেতে পারে। জীবন রহস্য উন্মোচনের মাধ্যমে ওই ছত্রাক ফসলের কিভাবে এর কি ক্ষতি করে তার রহস্য খুঁজে পাওয়া গেছে। তাদের এই উদ্ভাবন বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘বিএমসি জেনোমিকস’-এ প্রকাশিত হয়। বিজ্ঞানীরা এই মুহূর্তে সাদা আঁশের পাটের জাতকে ছত্রাক সহিষ্ণু করার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন। ওই জাতের ওপর আক্রমণকারী ছত্রাকটির ব্যবহূত হাতিয়ার ও তা ব্যবহারের কলাকৌশলের ‘জীবন রহস্য’ উন্মোচনের মাধ্যমে জানা গেছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ আগস্ট এ প্রকল্পের আওতায় দেশি পাটের ‘জীবন রহস্য’ উদঘাটন করা কথা জানান প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিজেআরআই’র মহাপরিচালক এবং পাট বিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণার প্রকল্পের পরিচালক ড. কামালউদ্দিন বলেন, আমরা কাজটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। অন্যান্য প্রকল্প থেকে এ প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমরা মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেইনি। তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিবেশে উত্পাদনের জন্য আমরা নতুন জাতের পাট উদ্ভাবনে কাজ করছি। এছাড়া রোগ প্রতিরোধী পাটের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে। পাট থেকে সুতা বর্তমানে বিজ্ঞানীরা দেশি পাটের জিন নকশা উন্মোচনের পর পাটের সোনালি আঁশ থেকে সুতা উদ্ভাবনে কাজ করছেন। সম্প্রতি বিজেআরআই’র আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক কামাল উদ্দিন বলেন, পাটকে তুলার বিকল্প হিসাবে ব্যবহারের উপযোগী করতে যে বাধা আছে তা আমাদের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। এ বাধা দূর করাই এখন আমাদের কাজ। তিনি আরো বলেন, সুতা তৈরি করতে প্রতি বছর মোট চাহিদার ৯৭ ভাগ তুলা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সুতা উত্পাদনের উপযোগী পাটের আঁশ উদ্ভাবন করা গেলে তুলা আমদানির পরিমাণ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মাকসুদুল আলম বলেন, ২ বছর আগে আমরা তোষা পাটের জীবন নকশা উন্মোচন করেছিলাম। এ বছর আমরা দেশি পাটের জীবন নকশা উন্মোচন করতে পেরেছি। বাংলাদেশকে আর বিশ্ব অবহেলা করতে পারবে না। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যেই গবেষণার ফলাফল কৃষক পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। ফিরে আসবে পাটের সোনালি অতীত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাটের জেনোমের পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখন আমাদেরই হাতে। বাংলাদেশ ও আগামী প্রজন্মের জন্য এটা অমূল্য সম্পদ। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরাই এটা আবিষ্কার করেছেন। বিজেআরআই’র সাবেক বিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আহমেদ শামসুল ইসলাম বলেন, পাটে ‘লিগনিন’ অধিক মাত্রায় থাকায় বস্ত্র শিল্পে এর ব্যবহার সীমিত। বিজেআরআই উদ্ভাবিত ধবধবে সাদা আঁশের পাটের জাত চাষ করতে গিয়ে ছত্রাক আক্রান্ত হওয়ায় সাফল্যের মুখ দেখেনি। এ ছত্রাককে প্রতিহত করতে যে জিন দরকার সেটা ওই পাটে সন্নিবেশিত করলে তা রোগ মুক্ত হবে। তখন বস্ত্র শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে পাটকে ব্যবহারের দ্বার হবে উন্মোচিত। তিনি বলেন, এর ফলে ভালো জাতের পাটের ফলন বেড়ে যাবে। কৃষকরাও উপকৃত হবেন। বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহা-পরিচালক কামাল উদ্দিন বলেন, এখন ৫০ শতাংশ তুলার সঙ্গে ৫০ শতাংশ পাটের আঁশ মিশিয়ে বিভিন্ন পণ্য তৈরি হচ্ছে। পাটের জেনোম সিকোয়েন্স হাতে পাওয়ায় এ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই পাট ফিরে পাবে তার সোনালি অতীত।