মতিঝিলে গত ৫ মে হেফাজতের সমাবেশে পুলিশের অভিযানে ৬১ জন নিহত হওয়ার তালিকা নিয়ে বেশ বেকায়দায় পড়েছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার। কারণ ওই তালিকাটিতে অসংলগ্ন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়া হয়েছে। গতকাল দৈনিক ইত্তেফাকসহ কয়েকটি দৈনিকে সেই বিভ্রান্তির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে অধিকারের পরিচালক নাসির উদ্দিন এলান একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি দাবি করেছেন, তিনজন জীবিত থাকার যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে তা ঠিক নয়। তবে অন্যদের ব্যাপারে বিবৃতিতে কিছু বলা হয়নি। অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তালিকা যদি ঠিক না হয়ে থাকে তাহলে আসল তালিকা তারা প্রকাশ করুক।
বিবৃতিতে অধিকার বলেছে, গতকাল কয়েকটি বাংলা দৈনিক পত্রিকায় হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অধিকারের তথ্যানুসন্ধানে ৬১ জন নিহতের তালিকা সম্পর্কে যে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে তা অধিকার এর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। অধিকার পরস্পরবিরোধী, অসত্য ও বিভ্রান্তিকর এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছে। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে অধিকার কর্তৃক প্রস্তুতকৃত নিহতদের তালিকাবহির্ভূত অনেক নামই পত্রিকাগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি অধিকারের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে যে তিনজন জীবিত আছে বলে দাবি করা হয়েছে তারা অধিকারের প্রস্তুতকৃত তালিকাতেই নেই। তাহলে তালিকায় কাদের নাম আছে তা প্রকাশের অনুরোধ করেন পুলিশ কর্মকর্তা। অধিকার যে সংস্থাগুলোর কাছে তালিকাটি সরবরাহ করেছে তাদের কাছ থেকেই পুলিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে তালিকাটি অধিকারেরই।
বিবৃতিতে অধিকার আরো বলেছে, ইতিমধ্যে জাতিসংঘ এবং চারটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনকে নিহতদের প্রাথমিক তালিকা সরবরাহ করেছে। সে সমস্ত সংগঠনগুলোকে সুষ্ঠু ও সংবেদনশীল তদন্তের মাধ্যমে এই বিভ্রান্তি দূর করার আহবান জানিয়েছে অধিকার। একই সঙ্গে অধিকার আবারও সরকারের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করার এবং অধিকার এর সেক্রেটারি এডভোকেট আদিলুর রহমান খানের মুক্তির দাবিও জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, অধিকারের অফিসের ইলেকট্রনিক্স ডিভাইসে পাওয়া কথিত প্রতিবেদন ও ৬১ জনের নামের তালিকার বিষয়ে আমরা তদন্ত করছি।
