কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও বাঁচানো যাচ্ছে না বলেশ্বর

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৫
জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেও পিরোজপুরের বলেশ্বর নদকে বাঁচিয়ে রাখার সরকারি একটি শুভ উদ্যোগকে সফল করা গেল না। দু’টি জেলার সীমানা বিরোধকে পুঁজি করে নদ দখলকারী কতিপয় সুবিধাভোগী মানুষ আটকে দিল সাড়ে আট কোটি টাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন। ১৭ হাজার মিটার দৈর্ঘ্যের এ নদ খনন কাজের বাকি ১২শ মিটার খনন বন্ধ থাকায় ভেস্তে যেতে বসেছে বলেশ্বর নদ খনন প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। পিরোজপুর জেলার উত্তর সীমানা থেকে শুরু হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত প্রায় ২০০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বলেশ্বর নদের ভরাট হয়ে যাওয়া উত্সমুখ থেকে ১৭ কিলোমিটার নদ পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০১১ সালে পুনর্খনন শুরু করে। যার মধ্যে প্রায় ১৬ কিলোমিটার পিরোজপুর জেলায় এবং বাকিটা বাগেরহাটে। তখন পিরোজপুর অংশের নদ খননের প্রায় সব কাজ নির্ধারিত মেয়াদে সম্পন্ন হয়। সীমানা জটিলতা এবং এলাকার ভূমিদখলকারীরা আদালতে মামলা করায় বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার অংশে তিনটি গ্রুপের ১২শ মিটার নদ খনন কাজ আজও শেষ করা যায়নি। আর এ অংশের কাজ শেষ না হওয়ায় পানিপ্রবাহ সঠিকভাবে না ঘটায় খননকৃত অংশও গত দুই বছরে ধীরে ধীরে ভরাট হয়ে যাচ্ছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আওতায় এ খনন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। সে সময়ে এস্কাভেটর ও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর উপজেলা ও বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলার ২৫টি স্থানে এ খনন কাজ শুরু করা হয়। পাউবো পিরোজপুর সদর উপজেলার ‘বাগমারা হতে দেপাড়া পর্যন্ত ভায়া খোন্তাকাটা লঞ্চঘাট-কচুয়া বাজার-আদাজুড়ি মরা বলেশ্বর নদ খনন প্রকল্প’ বাস্তবায়ন কাজ প্রায় শেষ করে আনার একপর্যায়ে বিপত্তি দেখা দেয়। পিরোজপুর জেলা শহরের কাছ থেকে বিভিন্ন পয়েন্টে এ গুরুত্বপূর্ণ নদটির ধারা উত্তরে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথে ক্রমান্বয়ে ভরাট হয়ে বিলীন ছিল। যার মধ্যে ছিল বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলা সদর থেকে পিরোজপুর সদর উপজেলার বাগমারা-আদাজুড়ি হয়ে নাজিরপুর উপজেলা ও কচুয়া উপজেলার দেপাড়া পর্যন্ত ভরাট হয়ে এর কোথাও কোথাও সৃষ্টি হওয়া ক্ষীণধারার সরু খাল ও ধানের জমি। যেখানের চরের জমি স্থানীয় প্রভাবশালী মহল নামে-বেনামে বন্দোবস্ত নিয়ে বাড়ি ও বাগান তৈরি করে। প্রকল্প বাস্তবায়নের উপকারিতা হিসাবে উল্লেখ ছিল সেচ ও নিষ্কাশনের মাধ্যমে অধিক খাদ্য উত্পাদন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, মত্স্য ও পশু পালন, বনায়ন এবং নৌ-চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানো। কিন্তু নদটি পুরোপুরি খনন না হওয়ায় এসব উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। ফলে এ প্রকল্পে ব্যয়কৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয় হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে খননকৃত ১৫ কিলোমিটার নদও সঠিকভাবে খনন করা হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। এসব অংশের নদ খননেও অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে জলবায়ু তহবিলের মোটা অংকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। নদের উপরিভাগের খনন পরিমাপ প্রস্থ ঠিক রেখে খনন করা হলেও নদের তলদেশ ও গভীরতা প্রাক্কলন অনুযায়ী খনন করা হয়নি। প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী উপরিভাগে প্রায় ২৩ মিটার প্রস্থ, ২.৭০ মিটার গভীর ও ১৫ মিটার তলদেশ প্রস্থতা বিশিষ্ট এই নদ খননে নয় লাখ ঘনমিটার মাটি উত্তোলন করার কাজ ছিল। এছাড়া খননকৃত নদের দুই পাড়ের ভেড়িবাঁধে বনায়ন করার কথা থাকলেও পুরো অংশে এ বনায়ন হয়নি। এ খাতে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল মূল প্রকল্প থেকে। এ বিষয়ে পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী তওহিদুল ইসলাম জানান, কচুয়ার মঘিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাগেরহাট জেলা জজ আদালতে মামলা করায় নিষেধাজ্ঞার কারণে নদের ১২শ মিটার খনন করা যায়নি। ফলে মূল নদ থেকে খননকৃত নদে পানি চলাচল করছে না।