বটিয়াঘাটায় জরাজীর্ণ ফেরিতে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৩৫
খুলনা-১ আসনের দাকোপ-বটিয়াঘাটা দুটি উপজেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ভদ্রা নদীর বরণপাড়া-পানখালী ফেরিঘাট। কিন্তু ফেরি অধিকাংশ সময় থাকে অচল। একমাত্র যে ফেরিটি আছে সেটির অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। তলদেশ ফেটে পানি প্রবেশ করায় ফেরিটি হয়ে গেছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আর ঝুঁকি নিয়ে ফেরিতে প্রতিনিয়ত পার হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রীসহ শত শত যানবাহন। যে কোন সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। বরণপাড়া ঘাটসূত্রে জানা যায়, ফেরির তলদেশে ছিদ্র থাকায় ক্রমাগত পানি ভিতরে প্রবেশ করে। একবার নদী পারাপার করলে ফেরির ভিতর ২ ফুটের মত পানি জমে যায়। প্রতিবার নদী পার হওয়ার পর পাম্পমেশিন দিয়ে সেচ দিতে হয়। ফলে দুই পাড়ের যাত্রীদের ঘাটে সময় নষ্ট করে পারাপারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাছাড়া ফেরির দুই পাড়ের পল্টুনের অবস্থাও খারাপ। পল্টুনের বিভিন্ন স্থানে মরিচা ধরে ভেঙ্গে গেছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় পড়ছে যাত্রীরা। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবহেলিত দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলার জনসাধারণ প্রতিনিয়ত নদী পারাপার হচ্ছে। মাঝ নদীতে ফেরি বন্ধ হয়ে পড়লে ট্রলারে ফেরি টেনে ঘাটে আনার দৃশ্য প্রায়ই চোখে পড়ে। ফেরির এক কর্মচারী জানান, বার বার সেচ দিয়ে ফেরি সচল রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে। তাছাড়া ফেরির পুরানো ইঞ্জিনে একবার পার হতে কম পক্ষে ৭/৮ লিটার জ্বালানি লাগে। আবার কোন কোন সময় স্রোতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে ১০ লিটার জ্বালানি লাগে। বাস পারাপারে ২০০ টাকা নিয়েও জ্বালানির খরচ ওঠে না। ঘাটের সাবেক এক ইজারাদার জানান, সড়ক বিভাগকে বার বার বলা সত্ত্বেও ঘাট উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষ এ যাবত্ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। দাকোপ উপজেলার চেয়ারম্যানের গাড়ী চালক বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত জানমালের ঝুঁকি নিয়ে লক্কড়-ঝক্কর ফেরি ও পল্টুন দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছি। অথচ স্থানীয় সংসদ সদস্য কিংবা সড়ক ও জনপদ বিভাগ এ ব্যাপারে এখনও উদাসীন। দাকোপ উপজেলার পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আবুল হোসেন বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের আন্তরিকতা ছাড়া ঘাটের উন্নয়ন কোন অবস্থায় সম্ভব নয়।