দুটি পাখি দুটি তীরে

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ২২:৪০
উপমহাদেশ ভাগাভাগিতে বাঙলা হলো দ্বিখণ্ডিত, ওদিকে পাঞ্জাব দুই ভাগ। মাথা একদিকে ঠ্যাং অপরদিকে—এই হলো ভাগাভাগি। সিলেটের জকিগঞ্জের পাশে কুশিয়ারা-বরাক—এরই ওপারে করিমগঞ্জ। সিলেটের এক মহকুমা এই করিমগঞ্জ ১৯৪৭ সালে চলে গেলো ভারতের আসাম রাজ্যে। সেই থেকে জকিগঞ্জ আর করিমগঞ্জের লোকজনের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ। একবার করিমগঞ্জ বেড়াতে গেলে এক বৃদ্ধ জানিয়েছিলেন ভাগাভাগির কারণে বেড়ে গেছে যাতনা। ওপারে নিকট আত্মীয়-স্বজনের মৃত্যু সংবাদ পেয়েও শেষবারের মতো তার মুখখানা দেখতে পারি না। আমার এ বেদনার কথা কে বুঝবে! আমি হয়তো পারি না, সীমান্তের অনেকেরই ধৈর্যের বাঁধ মানে না তারা লুকিয়ে কিংবা দালালের মাধ্যমে এপার থেকে ওপারে চলে যায়। যাবেই না কেন, নিকট আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে কার না মন চায়। দেশ-রাষ্ট্র এটা বুঝেও কেন বোঝে না! বলুন, করিমগঞ্জ থেকে জকিগঞ্জ যেতে সময় লাগে ১০ মিনিট, ভাড়া মাত্র ১০ টাকা। আর পাসপোর্ট-ভিসা নিয়ে যেতে হলে কয়েক হাজার টাকা খরচ পড়ে। আবেদন করার পরে ভিসা পেতে প্রায় ১ মাস লেগে যায়। কাছাকাছি থেকে এতোদিন অপেক্ষা করা কি সম্ভব! একবার পাঞ্জাবের লাহোরে বেড়াতে গিয়ে কয়েক জনের মুখে শুনলাম, লাভ হয়নি একটুকু লাভ হয়নি। ‘নার্গিস করন দেওয়ান’ অভিনীত ‘লাহোর’ ছবিটা দেখুন তাহলেই বুঝবেন উপমহাদেশ ভাগ করে পাঞ্জাবিদের মনে কীই না আঘাত দিয়ে গেছে ব্রিটিশরা। জকিগঞ্জের সীমান্তে বসবাসকারী একজন জানালেন, ভাগাভাগি যা হবার তা তো হয়েই আছে। পিছনে আর ফিরে যাওয়া সম্ভব! তবে তালাত মাহ্মুদের গাওয়াঃ “দুটি পাখি দুটি তীরে মাঝে নদী বহে ধীরে ছিঁড়িল বীণার তার মুছে গেল পরিচয়” গানটা শুনে দু’চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কীইবা করার আছে। তবুও প্রত্যাশা, যারা সীমান্ত এলাকায় বসবাস করেন, অর্থাত্ যাদের নিকট আত্মীয়-স্বজন ওপারে রয়ে গেছে তারা যেন জরুরি প্রয়োজনে নিকট আত্মীয়ের বাড়ি যেতে পারেন এরকম একটি সুব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে পারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। লিয়াকত হোসেন খোকন, ঢাকা