পদ্মা-যমুনায় দ্রুত পানি হ্রাসের ফলে নাব্যতা সংকটে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩৪ ঘণ্টা ফেরি-লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকে। গতকাল শনিবার সকাল ৯টা থেকে অর্ধেক বোঝাই নিয়ে সতর্কভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। ফলে উভয় ঘাটে সৃষ্ট দীর্ঘ যানজটে যাত্রীসাধারণ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। একই কারণে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দূরপাল্লার কোচ যাত্রীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
নাব্যতা সংকটে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাট বরাবর পলি জমে হর-হামেশাই ফেরি-লঞ্চ ডুবোচরে আটকা পড়ছে। গত রবিবার থেকে ৬ দিনে প্রায় ৩৪ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। আটকেপড়া যানবাহনের মালিক ও শ্রমিকরা জানায়, পচনশীল দ্রব্যসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বোঝাই কয়েকশ’ ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় দীর্ঘ ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছানের চেষ্টা হলে পণ্য বিনষ্ট, অর্থ ও সময় ক্ষেপণের আশংকা রয়েছে।
বাস-কোচ মালিকরা জানায়, ফেরিযোগে দূরপাল্লার কোচ ও লঞ্চে যাত্রী পরিবহণ ব্যাহত হওয়ায় রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার পরিবহন সিডিউল মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র এজিএম জিল্লুর রহমান জানান, নাব্যতা সংকটের কারণে শুক্রবার সকাল থেকে রো রো ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে জরুরীভিত্তিতে ছোট ফেরি চলাচল করে। পূর্ণ বোঝাই রো-রো ফেরি চলাচল করতে অন্তত ১০ ফুট নাব্যতা দরকার। জরুরীভিত্তিতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে এখনো ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়নি। শুক্রবার মধ্যরাতে ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান আটকা পড়লে শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটায় উদ্ধার করা হয়। তবে আবার এক ঘন্টা পরই আরেকটি ফেরি শাহ জালাল ডুবোচরে আটকা পড়লে প্রায় তিন ঘন্টা পর দশটার দিকে উদ্ধার করা হয়।
শনিবার দেখা যায়, দৌলতদিয়া প্রান্তে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ বাসসহ কয়েক’শ পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে রয়েছে। ট্রাভেলসের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক শহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত তাদের কোম্পানীর ২০টি যাত্রীবাহী বাস আটকে রয়েছে। আটকে থাকা যাত্রী বিশেষ করে মহিলা ও শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
খনন বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আতাহার আলী সরদার জানান, খননের পরই ফেরি চলে যাচ্ছে, বিপরীতে ওই ফেরিটি ঘুরে আসার পরই স্রোতে উজানের বালু-মাটি এসে চ্যানেল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে আমরা পুরাতন চ্যানেলে তিনটি ড্রেজার বসিয়ে খনন অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছি।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা ইউনিটের ব্যবস্থাপক (মেরিন) আব্দুস সাত্তার বলেন, ফেরি পারাপার মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ায় দুই ঘাটেই শত শত যানবাহন আটকে রয়েছে।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার প্রভাব
মাওয়া ঘাটে
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে মাওয়া-কাওড়াকান্দি ফেরিঘাটে। এখানে ফেরি পারাপারে চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। দক্ষিণবঙ্গগামী পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলো ঐ নৌ-রুট পরিহার করে এখন মাওয়া দিয়ে চলাচল করায় শনিবার মাওয়া ঘাটে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। মাওয়া চৌরাস্তা থেকে প্রায় ৩ কি.মি. দূরে দোগাছির কাছাকাছি চলে গেছে ট্রাকের দীর্ঘ সারি। তিনদিন ধরে আটকেপড়া এসব ট্রাকের ড্রাইভারের হাতখরচের টাকা-পয়সা শেষ হয়ে পড়ায় তারা পড়েছেন বিপাকে। অভিযোগ রয়েছে, ট্রাকগুলোকে পার করে দেবার নামে পুলিশ, সার্জেন্ট ও আনসারের সমন্বয়ে ঘাটে সৃষ্টি হয়েছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। অতিরিক্ত টাকা নিয়ে এই সিন্ডিকেট চক্রটি সিরিয়াল ভঙ্গ করে ট্রাক পারাপার করছে।
বিআইডব্লিউটিসি’র সহকারী মহাব্যবস্থাপক এস এম আশিকুজ্জামান জানান, অতিরিক্ত টাকা নিয়ে বিআইডব্লিউটিসি’র কেউ সিরিয়াল ভঙ্গ করে ট্রাক পারাপার করে থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
