ছাত্রলীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশ চলবে সংবিধান অনুযায়ী। কেননা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া গণতন্ত্র সুরক্ষিত হয় না, জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তিও অর্জিত হয় না। ভোটের মালিক বাংলাদেশের মানুষ। তারাই প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। কেউ এখানে প্রভাবিত করবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ৪২ বছরের মধ্যে কখনো শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়নি, কেবল ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। যদি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকতো তাহলে স্বাধীনতার ৪২ বছরে অনেক আগেই আমাদের দেশ অর্থনৈতিক মুক্তি পেত। তাই কোন অসাংবিধানিক শক্তি রাষ্ট্র যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার হাতে নিয়েই আমরা সংবিধান সংশোধন করেছি।
গতকাল শনিবার বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজেদের গড়ে তোলো। সংগঠন করতে হবে। তবে লেখাপড়া বাদ দিয়ে নয়। রাজনীতি করার পাশাপাশি ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বলব, লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগ দাও। কারণ শিক্ষা ছাড়া একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমানসহ অতীত সরকারগুলো ছাত্রদের হাতে অস্ত্র-মাদক তুলে দিলেও আমি ছাত্রলীগের হাতে কাগজ-কলম তুলে দিয়েছি। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আগামী দিনে দেশকে নেতৃত্ব দেয়ার মতো উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অকৃতকার্য বা ফেল করা নেতা-নেত্রীদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হলে দেশের যে কী অবস্থা হয় তা অতীতে দেখেছে দেশবাসী।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব স্মরণে আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগের সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের পরিচালনায় আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার ছাত্রলীগের নেতাকর্মী আলোচনা সভায় যোগ দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সংশোধনী বিলটি নিয়ম মেনেই পাস করা হয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিশেষ কমিটিতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি নেয়া হয়েছে। বিএনপি প্রতিনিধি দেয়নি। কিন্তু আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে তারা উপস্থিত ছিলেন। এই বিল সেখানে তারা অনুমোদন করেন। এখন কেন তারা প্রশ্ন তুলছেন।
২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষকদের ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের টাকা ফিরিয়ে আনলেও তারা বড় বড় কথা বলে। চক্ষুলজ্জা বলেও একটা কথা আছে।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি জামায়াত-শিবির খালেদা জিয়ার ওপর ভর করেছে। খালেদা জিয়া তাদের মদদ, উত্সাহ ও লালন-পালনের মাধ্যমে পুষ্ট করে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেন, একটি চিহ্নিত রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা আজ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে খামছে ধরছে, অস্তিত্বের শহীদ মিনারে আঘাত হানার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, কী কারণে এবং কারা ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে, আজ তা জাতির সামনে স্পষ্ট।
প্রধানমন্ত্রী আজ সাভার যাচ্ছেন
সাভারের নারী শ্রমিকদের আবাসন সংকট নিরসনের অংশ হিসাবে দেশের প্রথম শ্রমিক কলোনির ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করতে আজ রবিবার আশুলিয়ায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাভারের স্থানীয় একটি স্কুল মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে উপজেলায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।
প্রধানমন্ত্রীর আশুলিয়া আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহাজোট সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী নারীদের জন্য চারাবাগের খেজুরবাগানে পোশাক কারখানার ১ হাজার নারী শ্রমিকের জন্য ১২ তলা বিশিষ্ট একটি ডরমিটরি তৈরি করা হবে। এ উপলক্ষে আশুলিয়ায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক হোসেন।
