‘বিনাধান-১৪’ নামের বোরো ধানের নতুন উচ্চফলনশীল একটি জাত উদ্ভাবন করেছেন ময়মনসিংহের বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)। বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আবুল কালাম আজাদ এটির উদ্ভাবন করেন। উচ্চফলনশীল এই ধান স্বল্প সময়ে পরিপক্ব হয় বলে আমন ও বোরো মৌসুমের মাঝখানে দীর্ঘ জীবনকাল বিশিষ্ট সরিষাও চাষ করা যাবে। এর ফলে অধিক ধান উত্পাদনের পাশাপাশি কৃষকরা সরিষার আবাদও করতে পারবেন।
ড. আজাদ বিনা ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর অর্থায়নে ২০১০ সাল থেকে দীর্ঘ ৩ বছর গবেষণার মাধ্যমে সফলতা অর্জন করেন। গবেষণার শুরুতে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ত এলাকার উপযোগী লবণ সহিষ্ণু ধানের একটি আদি জাতের বীজকে জাপান এটমিক এনার্জি এজেন্সী থেকে বিভিন্ন মাত্রার কার্বন আয়ন রশ্মি প্রয়োগ করে নিয়ে আসা হয়। পরে সেই বীজগুলোর মিউটেশন ব্রিডিং করে পটে চারা উত্পাদন করে জমিতে লাগানো হয়। পরে ড. আজাদ ৩য় প্রজন্ম থেকে পাওয়া গাছগুলো বোরো মৌসুমে অর্থাত্ ফেব্রুয়ারি মাসের ২য় সপ্তাহে লাগিয়ে দেখেন যে, এটি মাত্র ১১৯ দিনে পরিপক্বতা অর্জন করেছে ও ফলনও ভাল হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি ফেব্রুয়ারির ২য় সপ্তাহ থেকে মার্চের ২য় সপ্তাহ পর্যন্ত রোপণ করেন এবং দেখতে পান যে, এটি ১২০-১৩০ দিনে পরিপক্বতা অর্জন করে অর্থাত্ মে মাসের ২য়-৪র্থ সপ্তাহে চাষিরা ফসল ঘরে তুলতে পারবে। নতুন এই জাতের বিনাধান-১৪ গড় ফলন দেয় হেক্টর প্রতি ৬.৮৫ টন।
জাতীয় বীজ বোর্ডের কারিগরি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ২৬ আগস্ট বোর্ডের ৮০তম সভায় এটি বিনাধান-১৪ হিসাবে কৃষক পর্যায়ে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদের অনুমোদন পায়।
ড. আজাদ এ বিষয়ে আরো জানান, বিনাধান-১৪ আবাদ করলে কৃষকরা প্রতিবছর ২০ লাখ হেক্টর জমি থেকে ধানের পাশাপাশি প্রায় ৪০ লাখ টন সরিষাও পাবে। এ পরিমাণ সরিষা থেকে প্রায় ১৪ লাখ টন তেল উত্পাদন সম্ভব। এছাড়াও অতিরিক্ত ২০ লাখ টন ধান উত্পাদিত হবে। এই ধান থেকে প্রাপ্ত চালে প্রায় ১০% আমিষ রয়েছে ও এ জাতের ভাত খেতেও সুস্বাদু।
