মাওয়া-কাওড়াকান্দি রুটে ১০ দিন ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে বা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে স্পিডবোটে পারাপার হচ্ছে যাত্রীরা। এতে ভিড় ফেরিতে। তাই ফেরিতে গাড়ি পারাপার করতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে ফেরি কর্তৃপক্ষের। দক্ষিণাঞ্চলের সাথে ঢাকার যোগাযোগের প্রধান এই রুটে ১০ দিন ধরে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।
গত ২২ আগস্ট কাওড়াকান্দি ঘাট থেকে এমভি শাহ পরান নামের একটি লঞ্চ মাওয়া ঘাটে যায়। কিন্তু মাওয়া শ্রমিকরা ঐ লঞ্চ ভাংচুর এবং লঞ্চটি আটকে রাখে। ঐ লঞ্চের মালিকের দাবি, লঞ্চের ফিটনেস, রুট পারিমট এবং বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও কতিপয় ব্যক্তি আমার লঞ্চটি চলতে বাধা দিচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বন্ধ হয়ে যায় কাওড়াকান্দি-মাওয়া নৌ-রুটে লঞ্চ চলাচল। ছোট ছোট ট্রলারে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে যাত্রীরা পারাপার হচ্ছে। অনেকে আবার বাধ্য হয়ে স্পিডবোটে পার হচ্ছে। এ কারণে কাওড়াকান্দি ঘাটে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল জানিয়েছেন, জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।
এদিকে গত মঙ্গলবার এই রুটের লঞ্চ মালিক সমিতি মাওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে দুই দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে ঘোষণা দেয়- নতুন লঞ্চ এই রুটে না প্রবেশ করিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। নতুবা মাওয়ার নৌ ও সড়ক পথ অচল করে দেয়া হবে। বৃহস্পতিবার এই আল্টিমেটাম শেষ হলেও মালিক সমিতির আর কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৩১ লঞ্চের রুট পারমিট স্থগিত
এদিকে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে চলাচলরত ৮৬টি লঞ্চের মধ্যে ৩১টি লঞ্চের রুট পারমিট স্থগিত করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক শাজাহান সিরাজ স্বাক্ষরিত রুট পারমিট বাতিল সম্বলিত চিঠি শনিবার মাওয়া ঘাটে এসে পৌঁছে। চিঠিটি সংশ্লিষ্ট লঞ্চের মালিকের কাছে সন্ধ্যায় পৌঁছানো হয়েছে।
মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চ চলাচলে অচলাবস্থার কারণে বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চগুলোতে সার্ভে শুরু করে। সার্ভে শেষে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, সার্ভে সনদ অনুযায়ী মাস্টার, ড্রাইভারসহ প্রয়োজনী সংখ্যক জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামাদি পাওয়া যায়নি। তাছাড়া যাও পাওয়া গেছে তার অধিকাংশই অকার্যকর। সাধারণ যাত্রীরা জীবনের নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে নৌ পথে চলাচল করছে। এই কারণে ঐ ৩১টি লঞ্চের রুট পারমিট স্থগিত করা হয়।
এ ব্যাপারে মাওয়া-কাওড়াকান্দি লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ভাস্কর চৌধুরী বলেন, যে কারণ দেখিয়ে স্থগিত করা হয়েছে তা সত্যি হয়ে থাকলে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই এসব পূরণ করা হবে। তবে মালিক সমিতি এ ব্যাপারে কোন চিঠি বিআইডব্লিউটিএর নিকট থেকে পায়নি।
