ফাঁকা মাঠে গোল দিতে দেয়া হবে না

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ২৩:১৯
বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এ সরকার মুখের কথায় নির্দলীয় সরকারের দাবি মানবে না। সামনে কঠিন সময়, সরকার মরণ কামড় দেবে। তবে মরণ কামড় দেয়ার আগেই তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে তাদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে। যেন ফাঁকা মাঠে গোল দিতে না পারে এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। দলের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় তারা সরকারের উদ্দেশে এই হুঁশিয়ারি দেন। সভায় সভাপতির বক্তৃতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগই এদেশে জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয়। বাংলাদেশে কখনো জঙ্গিবাদ ছিল না। আওয়ামী লীগই রাজনৈতিক হীন স্বার্থে সময়ে-সময়ে জঙ্গিবাদকে সামনে নিয়ে আসে; কিন্তু বিএনপি জঙ্গিবাদ সমর্থনও করে না, প্রশ্রয়ও দেয় না। বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলেই বাংলাদেশে হঠাত্ জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিএনপি ক্ষমতায় এসে জঙ্গিদের গ্রেফতার করে শাস্তি দিয়েছে। ‘বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটবে’- প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগের জবাবে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, এদেশের মানুষ যখন ‘জঙ্গিবাদ’ শব্দটিও জানতো না, তখন অর্থাত্ ’৯৬ থেকে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে সর্বপ্রথম জঙ্গিদের উত্থান ঘটে। যশোরে উদীচীর সমাবেশে, রমনার বটমূলে ও পল্টনে সিপিবির জনসভায় তখন বোমা হামলা হয়। কোটালীপাড়ায়ও যখন বিশাল বোমা পাওয়া যায়, তখনো এই আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় ছিল। তারা এখন উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপানোর অপচেষ্টা করছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের ৯০ ভাগ মানুষ নির্দলীয় সরকার চায়; কিন্তু নিজেদের অধীনে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার লিপ্সার কারণেই সঙ্কট তৈরি হয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, এ সরকার যত কলাকৌশল কিংবা কূটকৌশলই করুক না কেন, এদেশে দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। সামনের আন্দোলনেই সরকার দাবি মানতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, এই আন্দোলন হবে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সামনে আরো কঠিন সময় আসছে। আওয়ামী লীগ মরণ কামড় দেবে। তবে কামড় দেয়ার আগেই তাদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে। দলের স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, আওয়ামী লীগ মাঝে-মধ্যেই চিত্কার করে বলে, বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে। এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছে সেনাবাহিনীর কারণে। আর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ব্যাহত করেছে আওয়ামী লীগ। দলের ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমরা আজ কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষার সম্মুখীন। কোরবানির ঈদের পর তীব্র আন্দোলনে এ সরকার ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুধু বিএনপি বা ১৮ দল নয়, সমস্ত জনমত উপেক্ষা করে এবং প্রশাসন ও ঘন্ডা-গুন্ডা ব্যবহার করে যেনতেনভাবে একটি নির্বাচন করে ক্ষমতায় থেকে যেতে চান; কিন্তু জনগণ তার এই খায়েশ পূরণ হতে দেবে না। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি যাননি। আলোচনা সভা শেষে জাসাসের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।