ভোটে প্রাণ গেলে ৫ লাখ

আপডেট : ৩১ আগস্ট ২০১৩, ২৩:২০
নির্বাচনের সময় দায়িত্বপালনকালে কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী নিহত হলে তার পরিবার ৫ লাখ টাকা পাবে। গুরুতর আহতরা পাবেন দুই লাখ আর আহতরা পাবেন এক লাখ টাকা। আগামী জাতীয় সংসদসহ সব পর্যায়ের নির্বাচনে নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে উত্সাহিত করতে এই ক্ষতিপূরণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পাশাপাশি চাকরিরত অবস্থায় কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ অস্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করলে বা অসুস্থ হলে তারা যথাক্রমে একলাখ ও ৫০ হাজার টাকা করে সহায়তা পাবেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহ নেওয়াজ ইত্তেফাককে বলেন, ‘ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কমিশন সভায় অনুমোদন করা হয়েছে। বিষয়টি মানবিক হওয়ায় তহবিল গঠনের এ প্রস্তাব নিয়ে কারোর কোনো আপত্তি নেই। নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঝুঁকি থাকে বেশি। নির্বাচনী কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা যাতে উত্সাহিত হয়ে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেন এজন্য কিছু অর্থ সুনির্দিষ্ট করে রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ প্রসঙ্গত, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে দশম সংসদ নির্বাচন। ইতিমধ্যে এ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা দেখা দিয়েছে। গতকাল বাংলাদেশ ইলেকশন কমিশন সার্ভিসেস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের বিপরীত অবস্থানের প্রেক্ষাপটে আগামী নির্বাচনের সময়টিকে ‘কঠিন’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে আপনাদের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’ দেখা গেছে, জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে কাজ করতে গিয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ও নির্বাচনী সহিংসতায় অনেকে আহত ও নিহত হন। কমিশন থেকে তারা কোন আর্থিক সহায়তা পান না। একইভাবে কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিকালীন অসুস্থ কিংবা মৃত্যুবরণ করলে সাহায্য বঞ্চিত হন। অথচ অন্যান্য বিভাগ ও অধিদপ্তরে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আর্থিক সহায়তার বিধান আছে। বাংলাদেশ পুলিশ, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বিভাগে কর্মরতরা দুর্ঘটনায় পতিত হলে প্রতিষ্ঠান থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে নিহত হলে পরিবারকে ১ লাখ টাকা এবং আহতকে দেয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। এই আদলে নির্বাচনী কাজ করতে গিয়ে যারা আহত ও নিহত হন তাদেরকে আর্থিক সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করে ইসি। আগামী সপ্তাহে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়া হতে পারে। এর আগে নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনের সময় আহত এবং নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কোন আনুষ্ঠানিক নীতিমালা ছিল না। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বাইরে নির্বাচনের সময় নিযুক্ত অন্যান্য সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীও এ বিধানের আওতায় পড়বেন। কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি ইসির নিজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ক্ষতিপূরণের উদ্যোগ নিয়েছে ইসি। এর জন্য দুটি প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘সচিবালয় থেকে এ বিষয়ে আগে একটি প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কমিশনের অমত নেই। তবে সেটিকে আরো উপযোগী করে প্রস্তাবনার কথা বলা হয়েছে। সেটি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের বাজেট থেকে এবার অন্তত কোটি টাকার একটি বরাদ্দ আলাদাভাবে সংস্থান রাখার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি অর্থবছরের বাজেটেই এ খাতে অর্থ বরাদ্দ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের সভার কার্যপত্রে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে, নির্বাচনে অনাকাঙ্ক্ষিত নানা ধরনের গোলযোগ ও সহিংসতায় দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আওতায় থাকবে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাইরে অন্য সকল নির্বাচনেও আহত-নিহতদের পরিবারের সদস্যগণ এ ক্ষতিপূরণ পাবেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে ৩০০ নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার ভোট কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এর বাইরে আরও প্রায় ৭ লাখ আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ভোট কেন্দ্রে এবং ভ্রাম্যমাণ দল হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এসব নির্বাচনী দায়িত্বপালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই এ ক্ষতিপূরণ দেয়ার কর্মসূচির মধ্যে থাকবেন। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভোটের সময় বিভিন্ন স্থানে সহিংস ঘটনা ঘটে। এতে ভোট গ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আহত-নিহত হবার ঘটনা অতীতেও ঘটেছে। কিন্তু আগে ভোটের দায়িত্ব পালনের সময় আহত নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার কোন বিধিবিধান ছিল না। ফলে নির্বাচন কমিশন বিশেষ উদ্যোগ না নিলে কেউ এ ধরনের ক্ষতিপূরণ পেতেন না।